Category Archives: দেশ

Maoist: ১ জানুয়ারি যৌথভাবে আত্মসমর্পণের ঘোষণা এমএমসি জোনের মাওবাদী নেতৃত্বের

এই দিনকাল: যৌথভাবে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত মহারাষ্ট্র-মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড় (Maharashtra–Madhya Pradesh–Chhattisgarh zone) (এমএমসি) জোনের মাওবাদীদের (Maoists)। আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৬ সালে একসঙ্গে তাঁরা আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এমএমসি জোনের মুখপাত্র অনন্ত। তাঁর নামে জারি করা একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ভাবে আত্মসমর্পণের চেয়ে সমাজের সঙ্গে ‘সম্মিলিত ভাবে এবং সম্মানজনক ভাবে মিশতে’ চান তাঁরা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সিনিয়র নেতা মাল্লোজুলা এবং আশান্নার আত্মসমর্পণ, শীর্ষ কমান্ডার হিডমার নিহত হওয়ার পর মাওবাদী সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় সরকার বারবার আমাদের কাছে আবেদন করার পর ক্যাডাররা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ ক্যাডাররা অস্ত্র সমর্পণ করে সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন বলেও বার্তায় জানানো হয়েছে। 

অনন্ত বলেছেন, তিন রাজ্যের সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে এবং স্বচ্ছ ভাবে পুনর্বাসন দিলে তবে তাঁরা মূলধারায় ফিরে আসবেন। তিনি অভিযোগ করেন, আগে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা ‘কাগজেই রয়ে গেছে’। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়নি।

মাওবাদী সংগঠনের তরফে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড় সরকারকে আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযান বন্ধ রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। বিনিময়ে, তাঁরাও সমস্ত ধরণের সশস্ত্র কার্যকলাপ বন্ধ রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বার্তায় অনন্ত বলেছেন, ‘আমরা সকলেই একইদিনে একসঙ্গে যাব যাতে আমাদের ঐক্য বজায় থাকে।’ তিনি বলেন, আত্মসমর্পণের এই সিদ্ধান্ত ‘সম্মিলিত দলীয় কৌশলের’ অংশ এবং এটি সংগ্রামের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের লক্ষ্য কেবল আত্মসমর্পণ নয় বরং সমাজের সঙ্গে একটি মর্যাদাপূর্ণ পুনর্মিলন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের লড়াই ছিল সর্বদা জনগণের জন্য, তাঁদের বিরুদ্ধে নয়।’ এতে আরও বলা হয়েছে, পরিবর্তিত জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে এবং স্থানীয় গোষ্ঠীর কল্যাণের জন্য নেতৃত্ব এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

মাওবাদী সংগঠনের মুখপাত্র সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ এই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার জন্য। সেই সঙ্গে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি করা এড়াতে আবেদন করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ক্যাডার এবং তাঁদের পরিবার ‘শান্তি এবং সমাজে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন চান।’

Polygamy: বহু বিবাহ বন্ধে বিল পাশ অসম বিধানসভায়, লুকিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড

এই দিনকাল: বহু বিবাহ (Polygamy) বন্ধ করতে রাজ্য বিধানসভায় বিল পাশ করল অসমের হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার। গোপনে দ্বিতীয় করলে ১০ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বিলে। ‘অসম বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ বিল, ২০২৫’ নামে এই বিলটি বৃহস্পতিবার পাশ হয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় পাস হওয়া অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যে নতুন আইন আনার যে ভাবনা রয়েছে এই বিল সেই ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ। শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, আগামী বছরে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলে, বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ করা হবে।

‘অসম বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ বিল’ এ কী রয়েছে?

বিজেপি সরকারের তরফে পাশ করা এই বিলে বলা হয়েছে, প্রথম বিয়ে টিকে রয়েছে, তা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হবে। কেউ যদি পূর্বের বিয়ে গোপন করে পুনরায় বিয়ে করেন, সেক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তির ১০ বছরের জেল এবং জরিমানা হবে। তবে, এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না তফসিলি উপজাতি এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাধীন এলাকাতে। ‘বহুবিবাহ’ বলতে বিলটিতে বোঝানো হয়েছে, কোনও ব্যক্তির একবার বিয়ে হয়েছে এবং তাঁর স্বামী বা স্ত্রী জীবিত রয়েছে কিংবা তাঁদের আইনত বিচ্ছেদ হয়নি, এমতাবস্থায় যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আবার বিয়ে করেন তাহলে সেটিকে বহুবিবাহ হিসেবে ধরা হবে। বহুবিবাহের ফলে বঞ্চনার শিকার হওয়া ভুক্তভোগী মহিলাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বিলে বলা হয়েছে। বিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, শাস্তি পাওয়ার পর যদি কেউ অপরাধ করে, তাহলে প্রতিটি নতুন অপরাধের জন্য তাকে স্বাভাবিক শাস্তির দ্বিগুণ সাজা দেওয়া হবে।

গ্রামের প্রধান, কাজী, বাবা-মা বা আইনি অভিভাবক যদি অসৎ ভাবে তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে বহুবিবাহ পরিচালনায় অংশ নেন তাদেরকেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। যদি কোনও ব্যক্তি প্রস্তাবিত আইন লঙ্ঘন করে জেনেশুনে বিয়ে সম্পন্ন করেন, তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

Supreme Court: গুরুদ্বারে না প্রবেশ করায় বরখাস্ত হয়েছিলেন খ্রিস্টান সেনা আধিকারিক, বাহিনীর নির্দেশ বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট

এই দিনকাল: ধর্মীয় বিশ্বাসে তিনি খ্রিস্টান। কিন্তু সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্তাদের নির্দেশ অমান্য করে গুরুদ্বারে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেছিলেন। আর সে কারণেই তাঁকে বাহিনী বরখাস্ত করেছিল। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টেও (Supreme Court) ভর্ৎসিত হলেন ওই অফিসার। শীর্ষ আদালত ওই অফিসারকে ‘ঝগড়াটে ব্যক্তি’ এবং ‘অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে।

রিপোর্ট অনুসারে, শিখ সেনা জওয়ানদের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান না দেখানোয় তাঁকে অপসারণ করেছিল সেনাবাহিনী। বাহিনীর সেই সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। বরখাস্ত হওয়া ওই প্রাক্তন খ্রিস্টান সেনা অফিসারের নাম স্যামুয়েল কমলেসন। তাঁর আচরণ সামরিক শৃঙ্খলার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে সর্বোচ্চ আদালত। আদালত এদিন বলেছে, ‘তিনি কী ধরণের বার্তা দিচ্ছেন? কেবল এই কারণেই তাঁকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল। এটি একজন সেনা কর্মকর্তার দ্বারা সবচেয়ে জঘন্য ধরণের শৃঙ্খলাভঙ্গ।’

আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ,’নেতাদের দৃষ্টান্ত হতে হবে। আপনি আপনার সৈন্যদের অপমান করছেন। ‘রিপোর্ট অনুসারে, একটি শিখ স্কোয়াড্রনে নিযুক্ত ছিলেন লেফটেন্যান্ট স্যামুয়েল কমলেসান। তিনি বাধ্যতামূলক রেজিমেন্টাল কুচকাওয়াজের সময় ধর্মীয় উপাসনা স্থলের অভ্যন্তরীণ গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেন। এর পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হন। 

নিজের অবস্থানের পক্ষে কমলেসানের সাফাই, তাঁর খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের প্রতি আনুগত্যের কারণে শুধু নয়, বরং তাঁর সৈন্যদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করার ইচ্ছা থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালন করলে ধর্মীয় নীতি লঙ্ঘিত হবে না, কমলেসানকে খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা আশ্বাস দিয়েছিলেন। অভিযোগ, তার পরেও নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন তিনি। সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, তাঁর আচরণ বাহিনীর সংহতি এবং সৈন্যদের মনোবলকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। ২০২১ সালে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। মে মাসে, দিল্লি হাইকোর্ট সেই বরখাস্তের নির্দেশ বহাল রাখে। আদালত জানায়, কমান্ডিং অফিসার হিসেবে কমলেসানের দায়িত্ব বেশি ছিল। ধর্মীয় স্বাধীনতার চেয়ে আইনত আদেশ মেনে চলার বিষয় ছিল এটি। এরপর কমলেসন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, গুরুদ্বারে প্রবেশে তাঁর অস্বীকৃতি কি তাঁর অধস্তনদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অসম্মান করে না?

৫ ডিসেম্বর বিয়ে, তার আগে গুয়াহাটিতে অফিসের ভিতর থেকে উদ্ধার সংবাদ সঞ্চালিকার দেহ

এই দিনকাল: বিয়ে করে নতুন জীবন আর শুরু করা হল না। আগামী ৫ ডিসেম্বর বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা থাকলেও তার কয়েক সপ্তাহ আগে গুয়াহাটির অফিসের ভিতর থেকে উদ্ধার হল সংবাদ সঞ্চালিকার মৃতদেহ (Death)। ওই  সংবাদ কর্মী আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সংবাদ সঞ্চালিকার নাম ঋতুমণি রায়। তিনি স্থানীয় একটি নিউজ পোর্টালে কর্মরত ছিলেন। সোমবার সকালে সেই সংস্থার গুয়াহাটির অফিসের ভিতর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। সূত্রের খবর, আগামী ৫ ডিসেম্বর ঋতুমণি রায়ের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যেই বিয়ের আমন্ত্রণপত্র ছাপাও হয়ে গিয়েছে। ঘটনা যে সময় ঘটে সেই রাতে তিনি এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রি ওয়েডিং অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ওই সংবাদ সঞ্চালিকা। পরে তিনি অফিসে ফিরে আসেন এবং রাতেই আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ।

রিপোর্ট অনুসারে, গত ২৩ নভেম্বর অফিসে এসেছিলেন ঋতুমণি। কিন্তু সেই রাতে তাঁর শিফট শেষ হওয়ার পরও বাড়ি ফেরেননি। পরে সোমবার সকালে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেন সহকর্মীরা। এই ঘটনা জানিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তদন্তকারীরা। পুলিশ মৃতদেহের কাছ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। যাতে লেখা, ‘সকলের ভালোর জন্য। দুঃখিত।’ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান অফিসে কাজে যোগদানের আগে ঋতুমণি অন্যান্য ডিজিটাল মিডিয়া সংস্থায়ও কাজ করেছেন। নিকটাত্মীয়দের দাবি, আত্মহত্যার পিছনে আর্থিক কারণ থাকতে পারে। গোটা ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Nitish Kumar: মোদী-শাহের উপস্থিতিতে দশম বারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নীতীশ

এই দিনকাল: বিহারে ২০২ আসনে জয়লাভের পর এনডিএ শিবির নীতীশকেই (Nitish Kumar) মুখ্যমন্ত্রী করতে চলেছে বলে একাধিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মত প্রকাশ করেছিলেন। অবশেষে পাটনার কুর্সিতে সেই পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদের প্রত্যাবর্তন হল। বৃহস্পতিবার দশম বারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ৭৪ বছর বয়সি জেডিইউ নেতা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ পটনার গান্ধী ময়দানে নীতীশ কুমারকে শপথবাক্য পাঠ করান বিহারের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ এনডিএ শিবিরের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নায়ডু, এলজেপি (আর) নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (হাম)-র নেতা জিতনরাম মাঝি উপস্থিত ছিলেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও ছিলেন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। 

এদিন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপির বিজয় সিনহা এবং সম্রাট চৌধুরি। নীতীশ ছাড়া মোট ২৬ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন বৃহস্পতিবার। মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন জেডিইউ-র বিজয়কুমার চৌধুরি, বিজেন্দ্রপ্রসাদ যাদব, শ্রোয়ান কুমার, অশোক চৌধুরি, লেসি সিংহ, মদন সাহনি, সুনীল কুমার এবং মহম্মদ জামা খান। বিজেপির দিলীপ জয়সওয়াল, মঙ্গল পান্ডে, সঞ্জয় সিংহ টাইগার, রমা নিষাদ, অরুণশঙ্কর প্রসাদ, রামকৃপাল যাদব, নীতিন নবীন এবং সুরেন্দ্রপ্রসাদ মেহতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২৪৩ আসন বিশিষ্ট বিহার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৬ এবং ১১ নভেম্বর, ভোটগণনা এবং ফলপ্রকাশ হয়েছে ১৪ নভেম্বর।

Muslim: মদজিদে নামাজে বাধা, সিমলায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা পুলিশের

এই দিনকাল: মসজিদে নামাজের উদ্দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের (Muslim) পথ আটকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল পুলিশ। ঘটনাটি হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) সিমলার (Shimla)। সিমলার সানজাউলি মসজিদে (Sanjauli mosque) মুসল্লিদের শুক্রবার নামাজে যেতে বাধা দেওয়ার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, সিমলার সানজাউলি মসজিদকে স্থানীয় আদালত আগেই অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। গত শুক্রবার ওই মসজিদে নামাজের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বেশ কয়েক জন মুসল্লি। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের পথ আটকান বেশ কয়েকজন স্থানীয় পুরুষ এবং মহিলা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ। তদন্তকারীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে অবরোধকারী চার মহিলা-সহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। সূত্রের খবর, ‘দেবভূমি সংগ্রাম সমিতি’ নামের এক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তরা। অভিযুক্তদের দাবি, আদালত মসজিদকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তাই সেখানে ‘নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।’ এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা মুসলিমদের পরিচয়পত্র দেখতে চায়। অবরোধকারীরা প্রশ্ন তোলে, ‘যে মসজিদটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানে কীভাবে নামাজ পড়তে পারে?’

মহিলাদের দাবি, তাঁরা মুসলিমদের তাঁদের বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে দেবেন না। কারণ হিসেবে তাঁরা যুক্তি দেন, তাঁদের ঘরের ভেতরে উঁকি মারেন নামাজ পড়তে যাওয়া লোকজন। ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি মুসল্লিদের নামাজ পড়তে বাধা দিয়ে তাঁদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে দেখা গিয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। আরও তদন্ত চলছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

Islam: তীর্থযাত্রায় পাকিস্তানে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সে দেশের নাগরিককে বিয়ে ভারতীয় শিখ মহিলার

এই দিনকাল: গুরু নানকের (Guru Nanak) জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পাকিস্তানে গিয়েছিল ভারতীয় শিখ সম্প্রদায়ের একটি দল। প্রতিবেশী দেশে সেই তীর্থযাত্রায় গিয়ে ইসলাম (Islam) ধর্ম গ্রহণ করলেন এক ভারতীয় শিখ মহিলা। শুধু তাই নয় ধর্মান্তরিত হওয়ার পাশাপাশি এক পাক নাগরিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের ওই দলটির সকলে দেশে ফিরলেও ওই মহিলা ভারতে ফেরেননি। আর যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল তাঁর পরিজনদের মধ্যে।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ভিন দেশে গিয়ে ধর্মান্তরিত হওয়া ওই মহিলার নাম সরবজিৎ কৌর। তিনি পাঞ্জাবের কাপুরথালার বাসিন্দা। ৫২ বছর বয়সী সরবজিৎ অন্যান্য শিখ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে দুই দেশের সরকারের অনুমতিতে গত ৪ নভেম্বর ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। চলতি বছরে গুরু নানক দেবের ৫৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সামিল হতে তাঁরা সীমান্তের ওপারে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানে প্রায় ১০ দিন কাটানোর পর ১৩ নভেম্বর ১৯৯২ জন শিখ তীর্থযাত্রীর দল ভারতে ফিরে আসে। কিন্তু সেই দলে ছিলেন না সরবজিৎ।

সম্প্রতি উর্দুতে একটি ‘নিকাহনামা’ (ইসলামিক বিয়ের চুক্তি) প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও তার সত্যতা এই দিনকাল যাচাই করেনি। সেখানে দাবি করা হয়েছে সরবজিৎ পাক নাগরিক নাসির হুসেনকে বিয়ে করেছেন। নাসির লাহোর থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে শেখুপুরার বাসিন্দা। রিপোর্ট অনুসারে, ভারতীয় ওই মহিলা বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর নামও পরিবর্তন করেছেন। তিনি নতুন নাম নিয়েছেন নূর। সূত্রের খবর, সরবজিৎ বিবাহবিচ্ছিন্না ছিলেন। তাঁর প্রাক্তন স্বামী কর্নাইল সিং ৩০ বছর ধরে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, সরবজিতের পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছিল পাঞ্জাবের মুক্তসর জেলায়। তদন্তে জানা গিয়েছে, তিনি পাকিস্তানে নিখোঁজ হয়েছিলেন।পাকিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশের জন্য ইমিগ্রেশন রেকর্ডেও তাঁর নাম পাওয়া যায়নি। সবাই ফিরে এলেও তিনি পাকিস্তান থেকে না ফেরায় ভারতের ইমিগ্রেশন বিভাগ দ্রুততার সঙ্গে পাঞ্জাব পুলিশকে বিষয়টি জানায়।  এর পর ভারতের তরফে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

উল্লেখ্য শিখদের শীর্ষ সংস্থা শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি (এসজিপিসি) প্রতি বছর ঐতিহাসিক গুরুদ্বারগুলিতে শ্রদ্ধা জানাতে, বিশেষ করে গুরু নানকের প্রকাশ পর্বে তীর্থযাত্রীদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠায়। গত মাসে, সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণে ভ্রমণের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার প্রায় দুই সপ্তাহ পরে, সীমান্তের ওপারে নানকানা সাহিব গুরুদ্বারে শিখ ভক্তদের ১০ দিনের তীর্থযাত্রা করার অনুমতি দেয়।

Bihar Assembly Elections Result: বিহারে জোটে নেয়নি রাহুল-তেজস্বীরা, একলা লড়ে ৫ আসনে জয় পেল ওয়েইসির মিম

এই দিনকাল: বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে একক ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কার্যত সফল হল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম। যেখানে আরজেডি এবং কংগ্রেস আশানুরূপ ফল পায়নি, সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পাঁচটি আসনে জয় ছিনিয়ে আনল ওয়েইসির দল। 

বিহারে (Bihar Assembly Elections Result) নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার আগে থেকেই মহাজোটে সামিল হতে চেয়ে একাধিকবার আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবকে চিঠি লিখেছিলেন বিহার মিমের নেতৃত্ব, এমনই দাবি করেছিলেন খোদ আসাদ উদ্দিন ওয়েইসি। কিন্তু অভিযোগ, ইন্ডিয়া জোটে ওয়েইসির দলকে নিতে আগ্রহ দেখাননি রাহুল-তেজস্বীরা। ইন্ডিয়া ব্লক না সঙ্গে নেওয়ায় একলা লড়ার সিদ্ধান্ত নেয় অল ইন্ডিয়া মজলিস এ ইত্তেহাদুল মুসলেমিন। আর সেই সিদ্ধান্তে ভর করে নির্বাচনী ময়দানে লড়াইয়ে সাফল্য পেল দলটি। শুক্রবার ফল ঘোষণার পর দেখা গেল, বিহারের জোকিহাট, বাহাদুরগঞ্জ, কোচাধামান, আমৌর এবং বাইসি— পাঁচ আসনে জয়লাভ করেছেন মিমের প্রার্থীরা।

শুক্রবার ২৪৩ আসন বিশিষ্ট বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এদিন গণনার ফল অনুযায়ী জোকিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে ২৮৮০৩ ভোটে জয়ী হয়েছেন মিম প্রার্থী মহম্মদ মুর্শিদ আলম, তিনি ভোট পেয়েছেন ৮৩৭৩৭টি। ওই কেন্দ্রে দ্বিতীয় হয়েছেন জেডিইউ এর মনজার আলম, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫৪৯৩৪টি। বাহাদুরগঞ্জ কেন্দ্রে ২৮৭২৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন মিম প্রার্থী মহম্মদ তৌসিফ আলম, তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৮৭৩১৫টি। দ্বিতীয় হয়েছেন কংগ্রেসের মহম্মদ মাসওয়ার আলম, তিনি পেয়েছেন ৫৮৫৮৯টি ভোট। 

Oplus_131072

কোচাধামান কেন্দ্রে ২৩০২১ ভোটে জয় পেয়েছেন মিমের মহম্মদ সারওয়ার আলম, তিনি ভোট পেয়েছেন ৮১৮৬০টি। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় হয়েছেন আরজেডির মুজাহিদ আলম, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫৮৮৩৯টি। আমৌরে মিমের আখতারুল ইমান জয়ী হয়েছেন ৩৮৯২৮ ভোটে, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১০০৮৩৬টি। এই কেন্দ্রে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেডিইউ এর সাবা জাফর, তিনি পেয়েছেন ৬১৯০৮ ভোট। বাইসি কেন্দ্রে মিমের গোলাম সারওয়ার জয় পেয়েছেন ২৭২৫১ ভোটে, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৯২৭৬৬টি। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় হয়েছেন বিজেপির বিনোদ কুমার, তিনি পেয়েছেন ৬৫৫১৫টি ভোট।

উল্লেখ্য, বিহারে বিজেপিকে সাহায্য করার অভিযোগ তুলে বিরোধীরা মিমকে নিশানা করেছে বহু বার। সেই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে দলটির প্রধান আসাদ উদ্দিন ওয়েইসি গত সেপ্টেম্বরে ইন্ডিয়া জোটে সামিল হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিলে ইন্ডিয়া ব্লকে যোগ দেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। ওয়েইসি বলেছিলেন, ‘আমার দলের বিহার ইউনিটের প্রধান তেজস্বী যাদবকে বেশ কয়েকটি চিঠি লিখেছেন। শেষ চিঠিতে, ২৪৩-শক্তিশালী বিধানসভার নির্বাচনে এআইএমআইএমকে ছয়টি আসন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’ পরবর্তীতে মিমের সঙ্গে জোট করতে রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদবরা কোনও আগ্রহ দেখাননি।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মিম ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, যার মধ্যে পাঁচ কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল দলটি। যদিও দু বছর পর বিহার ইউনিটের সভাপতি আখতারুল ইমান ছাড়া, মিম-এর টিকিটে নির্বাচিত সকল বিধায়ক আরজেডিতে যোগ দেন।

Bihar Assembly Election Result: বিহারে মোদী-নীতিশ জুটির প্রত্যাবর্তন, ভরাডুবি ইন্ডিয়া জোটের

এই দিনকাল: বিহারে ইন্ডিয়া জোটের বিপর্যয় (Bihar Assembly Election Result)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জেডিইউ নেতা নীতিশের উপর আস্থা রাখলেন সে রাজ্যের মানুষ। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আরও এক বার ক্ষমতা দখলের পথে এনডিএ জোট। শুক্রবার নির্বাচনের ঘোষিত ফল অনুসারে এনডিএ জোট জয়ী হয়েছে ২০২টি আসনে, আর রাহুল-তেজস্বীদের ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে মাত্র ৩৫টি আসন। অন্যান্যরা পেয়েছেন ৬টি আসন।

ভারত জোড়ো যাত্রা থেকে শুরু করে ভোট চুরির অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দেশের রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন এই দুটি কর্মসূচিতে। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারেও ঝড় তুলেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তেজস্বী যাদবকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী জনসভাও করেছিলেন তিনি। সেখান থেকে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। কিন্তু ইভিএমে জনতার মন টানতে কার্যত ব্যর্থ হলেন রাহুল-তেজস্বীরা। শুক্রবার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হতে প্রাথমিক প্রবণতায় এনডিএ জোট এগিয়ে থাকে। সময় যত গড়াতে থাকে তত ঝড়ের বেগে এনডিএ জোটের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের ব্যবধান বাড়তে থাকে। এদিন গণনার চূড়ান্ত ফল অনুসারে ২৪৩ আসন বিশিষ্ট বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বিজেপি। পদ্ম শিবির পেয়েছে ৮৯টি আসন। নীতিশ কুমারের জেডিইউ পেয়েছে ৮৫ আসন। বিজেপি, জেডিইউ এবং আরও সহযোগী দলগুলি মিলিয়ে এনডিএ জোটের মোট আসন সংখ্যা ২০২। অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ৬টি আসন, আরজেডি পেয়েছে ২৫ আসন। 

উল্লেখ্য, গত ৬ ও ১১ নভেম্বর দু দফায় সম্পন্ন হয়েছে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। হাইভোল্টেজ নির্বাচনে এনডিএ জোটের হয়ে প্রচার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। ১১ নভেম্বর একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষার রিপোর্টে দাবি করা হয় এনডিএ জোট ক্ষমতায় আসছে বলে, অবশেষে সেই সম্ভাবনাই মিলে গেল প্রকৃত ফলাফলে।

Omar Abdullah: ‘জম্মুকাশ্মীরের প্রত্যেক বাসিন্দা জঙ্গি নয়’: মুখ্যমন্ত্রী ওমর

এই দিনকাল: দিল্লি গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত জারি রেখেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ইতিমধ্যে একাধিক চিকিৎসককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। এই আবহে সংবাদ মাধ্যমে এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন জম্মুকাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লা (Omar Abdullah)। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, দিল্লি বিস্ফোরণের নিন্দা যতই জানানো হোক না কেন, তা যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি তিনি বলেন, জম্মুকাশ্মীরের প্রত্যেক বাসিন্দা সন্ত্রাসী নয় বা জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িত নয়।

বৃহস্পতিবার জম্মুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওমর আব্দুল্লা বলেন, ‘এই ঘটনার নিন্দা যতই করা হোক, তা যথেষ্ট নয়। নিরপরাধ মানুষদের এভাবে হত্যা করা মেনে নেওয়া যায় না এবং কোনও ধর্ম এমন কাজকে অনুমোদন দেয় না। তদন্ত চলছে, এবং দোষীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের প্রতিটি বাসিন্দা সন্ত্রাসী নয়, বরং কেবলমাত্র কয়েকজন ‘সর্বদা এখানকার শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে।’ ওমর বলেন, ‘যখন আমরা জম্মুকাশ্মীরের প্রত্যেক বাসিন্দা এবং প্রত্যেক কাশ্মীরি মুসলমানকে একই মানসিকতার মানুষ হিসেবে দেখি এবং মনে করি যে প্রত্যেকেই সন্ত্রাসী, তখন মানুষকে সঠিক পথে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিস্ফোরণের জন্য যারা দায়ী তাদের শনাক্ত করে শাস্তি দেওয়া দরকার। পাশাপাশি যারা নির্দোষ, সেই সব মানুষদের হেনস্থা করা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িতে বিস্ফোরণের জেরে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন উমর নবি নামের এক চিকিৎসক। নিহত চিকিৎসকের দেহাংশের ডিএনএ এর সঙ্গে তাঁর মায়ের এবং ভাইয়ের ডিএনএ মিলিয়ে তদন্তকারীরা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছেন। গাড়িটিতে চালকের আসনে ছিলেন উমরই। পেশায় চিকিৎসক ও অধ্যাপক হয়েও কী ভাবে সন্ত্রাসী কাজকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন উমর তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওমর বলেন, ‘আমরা কি আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের জড়িত থাকতে দেখিনি? কে বলে যে শিক্ষিত মানুষ এসব কাজে জড়ায় না?’