এই দিনকাল: সংসদে ভোটাভুটিতে হেরে গেল মোদী সরকারের আনা মহিলা সংরক্ষণের (Women’s Quota Bill) জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। শুক্রবার এই বিলের পক্ষে ভোট দেন ২৯৮ জন। বিলের বিপক্ষে ভোট দেন ২৩০ জন সাংসদ। এটি পাশ হওয়ার জন্য উপস্থিত সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন ছিল। এদিন ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিষয়টিকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত দুটি বিল, যা এই সাংবিধানিক সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেগুলোও আটকে গেছে। তবে সরকার এই বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রথম বিলটি ভোটাভুটিতে আটকে যাওয়ার পর, আসন পুনর্বিন্যাস-সহ বাকি বিল দুটি আর ভোটাভুটির জন্য পেশ করা হয়নি। কেন্দ্র জানিয়েছে, এই বিলগুলো নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে “অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত”। বৃহস্পতিবার রাত ১টা পর্যন্ত লোকসভায় বিতর্ক চলে। শুক্রবারও তা অব্যাহত ছিল। সরকার পক্ষ লোকসভায় এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পক্ষে জোরালো দাবি তুলেছিল। এমনকি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী দলগুলিকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, লোকসভায় আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতি কোনো অবিচার হবে না বলে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই মিলে নারীদের সংরক্ষণ দেওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া না করি। আমি আপনাদের কাছে আবেদন করছি – এটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না, এটি জাতীয় স্বার্থে।’
Women’s Quota Bill: মহিলা সংরক্ষণ বিল কেন সমর্থন করল না বিরোধীরা?
আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে এই বিলটিকে যুক্ত করার বিরোধিতা প্রথম থেকে করে আসছে বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার নারী সংরক্ষণের বিষয়টিকে একটি ধোঁয়াশা হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রকৃতপক্ষে দেশের নির্বাচনী মানচিত্র নিজেদের সুবিধার্থে নতুন করে আঁকার চেষ্টা করছে মোদী সরকার। তাঁর অভিযোগ, ‘এটি কোনো নারী বিল নয়, কারণ এর সঙ্গে নারী ক্ষমতায়নের কোনো সম্পর্ক নেই। এই বিলটি ভারতের নারীদের ব্যবহার করে এবং তার আড়ালে লুকিয়ে দেশের নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তন করার একটি চেষ্টা।’