Muslim: অসমের কোকরাঝাড়ে গো-মাংস উদ্ধার সন্দেহে মুসলিমদের বাড়ি ভাঙচুর



এই দিনকাল: ‘বাড়ির উঠোনে গো মাংস পাওয়া গিয়েছে’— এই সন্দেহে সংখ্যালঘু মুসলিমদের (Muslim) বাড়ি ভাঙচুর করল উন্মত্ত জনতা। ঘটনাটি ঘটেছে বিজেপি প্রভাবিত অসমের কোকরাঝাড় জেলার নয়াসারা গ্রামে। স্থানীয় একটি বাড়ির কাছে মাংসের পাশাপাশি পশুর চামড়াও উদ্ধার হয় বলে দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ির উঠোনে সন্দেহজনক ‘গো-মাংস’ পাওয়া যায়। আর তার পরেই এই অশান্তি শুরু হয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে এই মাংস রেখে মুসলিমদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। আবার একাংশ মনে করছে, এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সেখান থেকে এগুলি আনা হতে পারে।

রিপোর্ট অনুসারে, গো মাংস পাওয়া গিয়েছে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর উন্মত্ত জনতা মুসলিম সম্প্রদায়ের একাধিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং ক্ষয়ক্ষতি করে। ইতিমধ্যে ঘটনার সময়কার ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা গেছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই একদল লোক ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালাচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। কোনও ধরণের উত্তেজনা রুখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমে ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে সাত জনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে চার জন পুরুষ ও তিন জন মহিলা। প্রশাসনিক আধিকারিকরা উভয় সম্প্রদায়কে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সন্দেহভাজন মাংস কোথা থেকে এলো, এবং এই হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে আরও তদন্ত চলছে। তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অসমের বোড়োল্যান্ড অঞ্চলের কিছু অংশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বারবার গরু-সংক্রান্ত বিদ্বেষমূলক ঘটনা ঘটে। তা নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই এই ঘটনা ঘটল। কোকরাঝাড়-সহ বোড়োল্যান্ড অঞ্চলে বোড়ো এবং মুসলিমদের মধ্য্যে এর আগেও সংঘাত হয়েছে। ২০১৪ সালের মে মাসে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড (এনডিএফবি-সংবিজিত গোষ্ঠী)-এর সন্দেহভাজন জঙ্গিরা কোকরাঝাড় এবং পার্শ্ববর্তী জেলা জুড়ে মুসলিম গ্রামগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বাড়িঘর । সেই সময় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল মহিলা ও শিশু। তার আগে, ২০১২ সালে কোকরাঝাড়ে সহিংসতার ফলে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। ঘরছাড়া হয়েছিলেন প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ। যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *