Category Archives: পশ্চিমবঙ্গ

CPDRS: ক্যানিংয়ে মহিলা হোমগার্ডের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি সিপিডিআরএস-এর

এই দিনকাল: গত শনিবার ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার হয় মহিলা হোমগার্ড গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমি মোল্লার ঝুলন্ত দেহ। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ক্যানিং থানারই একজন সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ক্যানিং থানায় ডেপুটেশন দিল মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস (CPDRS)।

মঙ্গলবার সিপিডিআরএস রাজ্য কমিটির সদস্য সেরিফ হোসেন পুরকাইতের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি দল ক্যানিং থানার আইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এদিন সেরিফ হোসেন এই দিনকালকে বলেন, ‘পুলিশ ব্যারাকে পুলিশ কর্মীর দ্বারা যদি আরেক জন পুলিশ কর্মীকে নির্যাতন ও খুনের অভিযোগ আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? অবিলম্বে দোষীকে গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার হয় পারভিনের দেহ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন ওই পুলিশ কর্মী। শুক্রবার তাঁকে ফোন করেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু ফোনে না পেয়ে কোয়ার্টারে গিয়েছিলেন পারভিনের বোন রুকসানা। তিনিই দিদির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে বাড়ির লোককে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে। মৃত হোমগার্ডের পরিবারের দাবি, রেশমি আত্মহত্যা করেননি। তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যানিং থানারই সাব-ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে পরিবার। অভিযুক্ত সাব-ইনস্পেক্টরের সঙ্গে পারভিনের প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল বলে দাবি মৃতের পরিবারের।

Humayun Kabir: ‘মুসলিম বিধায়ক কমছে কেন?’ ‘বাবরি মসজিদের’ শিলান্যাস করে মমতাকে আক্রমণ হুমায়ুনের

এই দিনকাল: পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তিনি ধর্মস্থানের শিলান্যাস করেন। এদিন হুমায়ুন জানান, নতুন করে নির্মিত হতে চলা মসজিদের জন্য ৮০ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য করতে চেয়ে এক শিল্পপতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই এই কাজে টাকার অভাব হবে না বলে দাবি করেন বিধায়ক। পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ শানান দল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন।

ঠিক কত লোক হয়েছিল কর্মসূচিতে? হুমায়ুন সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেন, প্রায় চার লক্ষ মানুষ এদিন বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আরও লোক আসতেন। প্রশাসনের ‘চমকানিতে’ অনেকে আসতে পারেননি। হুমায়ুন কবীরের কথায়, ‘আরও ৫০ হাজার লোক বাড়ত। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি…প্রশাসনের একটা অংশ অনেক চমকেছে। অনেক লোক বাস ভাড়া করেছে, তাদের বলেছে, কোথায় যাবি ? ওরা বলেছে, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদে। তো, প্রশাসন তাদের বসিয়ে রেখেছে।’

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে মুসলিম বিধায়ক সংখ্যা ক্রমশ কমছে কেন, শনিবার সেই প্রশ্ন তোলেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে ৬৭ জন মুসলমান বিধায়ক ছিলেন। পুরো ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৬-তে সেই সংখ্যাটা নেমে এল ৫৭-তে। ২০২১ সালে সেটা চক্রান্ত করে নামিয়ে আনলেন মাত্র ৪৪ জনে।’ মুসলিম সমাজের কাছে আর্জি জানিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমি মুসলমান সমাজের কাছে একটাই কথা বলব, আপনারা যাকে খুশি যত মুসলমানদের ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠান। ২৯৪-এর মধ্যে যে বাকি ২০৪টা থাকবে সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে লড়াই হোক।’ এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁরা সরকারে থাকুন। আমরা বিরোধী আসনে থাকব। বিধানসভায় ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে অধিকার বুঝে নেব, উন্নয়ন বুঝে নেব। এটাই আমার লক্ষ্য।’

Humayun Kabir: ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা করায় তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হুমায়ুন, নতুন দল গড়বেন ২২ ডিসেম্বর

এই দিনকাল: অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। আর তার জেরে দল থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করে দিল জোড়াফুল শিবির। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ঘটনাচক্রে এদিনই মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে জনসভা ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভায় ডাকও পেয়েছিলেন ভরতপুরের বিতর্কিত বিধায়ক। যখনই জানতে পারেন দল তাঁকে ছেঁটে ফেলেছে, তখনই সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন হুমায়ুন কবীর।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, আমি দলের তরফে এখনও কোনও চিঠি পাইনি। তবে অপেক্ষা করুন, অনেক কিছু বলার আছে। সেই সঙ্গে তিনি জানান, শুক্রবার কিংবা সোমবার বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেবেন তিনি। তাঁকে সাসপেন্ড করার পিছনে চক্রান্ত রয়েছে বলেও দাবি করেন। ৬ ডিসেম্বর মসজিদ নির্মাণ শুরুর যে কর্মসূচি তা অপরিবর্তিত থাকছে বলে জানান ভরতপুরের বিধায়ক। পাশাপাশি ২২ ডিসেম্বর নতুন দল ঘোষণার কথা জানান। শুধু তাই নয়, তাঁর নবগঠিত দল রাজ্যের ১৩৫ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে বলে জানান সাসপেন্ডেড বিধায়ক।

উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, এর আগেও দল থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। ২০১৫ সালে তাঁকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে রেজিনগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও সেবারে পরাজিত হন। তার পর কংগ্রেসে ফেরেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন হুমায়ুন। গেরুয়া শিবির তাঁকে সে বারে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থীও করেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরেন তিনি। ভরতপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন।

SIR: ‘নাগরিকত্ব মানুষের জন্মগত অধিকার’: এসআইআর প্রসঙ্গে মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র

এই দিনকাল: পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০০২ এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় একাধিক আত্মহত্যার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই আবহে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে সরব হলেন মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ধনুরহাটে মানবাধিকার সংগঠন ‘সিপিডিআরএস’-এর সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্ব মানুষের জন্মগত অধিকার, তা কোনও প্রশাসনিক পরীক্ষার বিষয় হতে পারে না’। 

শনিবার ‘সিপিডিআরএস’-এর ডায়মন্ড হারবার মহকুমা কমিটির আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘এনআরসি না এসআইআর’ শীর্ষক সেই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখার সময় সুজাত ভদ্র বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। একজন নাগরিককে ডেকে তিনি নাগরিক কি না, তার প্রমাণ চাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এটি আইনের পরিপন্থী।’

প্রসঙ্গত, রাজ্যজুড়ে এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই উদ্যোগ বলে জানান আয়োজকরা। সিপিডিআরএস নেতৃত্বের অভিযোগ, নাগরিকত্বের নামে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সমাজকে বিভাজিত করার চেষ্টা চলছে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আগামী দিনে নিচুতলায় গিয়ে গণআলোচনা এবং আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এদিনের সভায় শতাধিক মানুষ অংশ নেন এবং বক্তারা স্পষ্টভাবে বার্তা দেন যে, নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। সভায় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র। এছাড়াও ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক রাজকুমার বসাক, কোষাধ্যক্ষ জ্ঞানতোষ প্রামাণিক এবং মহকুমা সম্পাদক সেরিফ হোসেন পুরকাইত।

SIR: এসআইআর-এ কোন নথি প্রয়োজন? দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা

এই দিনকাল: বঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR)। ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে ধাপে ধাপে এই বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা শুরু করেছে বলে দাবি। যদিও বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার। কোন কোন নথি এসআইআর এর জন্য প্রয়োজন সে বিষয়ে কমিশনের তরফে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের আলাদা করে নথি জমা দিতে হবে না। নথি দিতে হবে না যাঁদের বাবা, মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে তাঁদেরকেও। পাশাপাশি যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই বা যাঁদের বাবা, মায়ের নাম ওই তালিকায় নেই তাঁদের জন্য ১১টি নথির একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। এই তালিকায় থাকা যে কোনও একটি নথি দিলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম তোলা যাবে।

এক নজরে ১১ নথি

১) কেন্দ্রীয় সরকার অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কর্মরত ছিলেন বা পেনশন পান এমন নথি।

২) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের তরফে দেওয়া আপনার নামে থাকা যে কোনও নথি। 

৩) জন্ম শংসাপত্র। 

৪) পাসপোর্ট। 

৫) মাধ্যমিক বা তার উর্ধ্বে কোনও শ্রেণীর শিক্ষাগত শংসাপত্র।

৬) রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র। 

৭) বন অধিকার শংসাপত্র। 

৮) এসসি, এসটি, ওবিসি বা অন্য কোনও জাতিগত শংসাপত্র।

৯) জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি।

১০) রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া ফ্যামিলি রেজিস্ট্রার।

১১) জমি অথবা বাড়ির দলিল।

কমিশন জানিয়েছে, আধার কার্ড যেহেতু নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, তাই আধারের সঙ্গে উপরের যে কোনও একটা নথি দিতে হবে। 

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চালুর কথা সোমবার ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, গুজরাট, কেরল, লাক্ষাদীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবরে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার কাজ ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে। ওই দিন থেকে এই রাজ্যগুলিতে এনুমেরেশন ফর্ম ছাপা এবং বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ চালু হয়েছে। যা চলবে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। 

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমেরেশন ফর্ম দেওয়া হবে ৪ নভেম্বর থেকে। চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। সেই তালিকা নিয়ে যদি কারোর অভিযোগ থাকে তাহলে তা জানাতে হবে ৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর ৮ জানুয়ারির মধ্যে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সবশেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।

SIR: এসআইআর চালু হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২ রাজ্যে, ৪ নভেম্বর থেকে দেওয়া হবে ফর্ম

এই দিনকাল: পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চালু হয়ে গেল। সোমবার মধ্যরাতে এই ১২ রাজ্যের ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা হবে। এর পর ২৮ অক্টোবর থেকে এই রাজ্যগুলিতে শুরু হবে এনুমেরেশন ফর্ম ছাপা এবং বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ। যা চলবে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। 

সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি ঘোষণা করেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমেরেশন ফর্ম দেওয়া হবে ৪ নভেম্বর থেকে। এই ফর্ম বিতরণ চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর পর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর। সেই তালিকা নিয়ে যদি কারোর অভিযোগ থাকে তাহলে তা জানাতে হবে ৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর ৮ জানুয়ারির মধ্যে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সবশেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। 

কোন ১২ রাজ্যে এসআইআর? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, গুজরাট, কেরল, লাক্ষাদীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবরে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার কাজ হবে। এই ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ভোটার রয়েছে প্রায় ৫১ কোটি। 

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, গোয়া, গুজরাট এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে। উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন আয়োজিত হবে ২০২৭ সালে। তবে অসমে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন থাকলেও সে রাজ্যে এখনই এসআইআর করা হচ্ছে না। কারণ হিসাবে কমিশন জানিয়েছে, অসমে নাগরিকত্বের বিধি দেশের বাকি রাজ্যের থেকে আলাদা। 

Murder: ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে খুন করে থানায় হাজির শিক্ষক

এই দিনকাল: নিজের স্ত্রীকে নৃশংস ভাবে খুনের (Murder) অভিযোগ উঠল এক গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, জীবনসঙ্গীকে প্রাণে মেরে ফেলে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত। ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের ধোবি ঘাট এলাকায়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম দুর্গা দাস। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের স্ত্রীকে মর্মান্তিকভাবে খুন করেন। এর পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ওই ব্যক্তি। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, কাটারি বা ওই জাতীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে খুন করেছে অভিযুক্ত। নিহত স্ত্রীর নাম মুকুল কর বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে খুন, সে বিষয়ে ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরা। খুনের কারণ সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

অন্য দিকে ঘটনার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে দেহ পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক অশান্তি, নাকি অন্য কোনও কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড তা জানতে দুর্গাপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা।

North Bengal: ধসবিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে রেড ভলান্টিয়ার, হেল্পলাইন চালু করল সিপিএম

এই দিনকাল: টানা বৃষ্টি এবং ধসের ফলে বিপর্যস্ত পাহাড়। দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক-সহ পার্বত্য এলাকায় দুর্ভোগে মানুষ ও বন্যপ্রাণী। ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। অনেকে বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছেন। এই আবহে যে কোনও প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে রেড ভলান্টিয়ারদের হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করল সিপিআইএম।

রবিবার নিজেদের সমাজ মাধ্যমে রেড ভলান্টিয়ারদের ফোন নম্বর প্রকাশ করেছে বাম দলটি। দার্জিলিং জেলায় যাঁরা সাহায্যের হাত বাড়াতে প্রস্তুত সিপিএমের তরফে তাঁদের নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই জেলায় রেড ভলান্টিয়াররা হলেন, শচীন খাতি -9907070824, সাগর শর্মা -7908981149, নান্টু কুন্ডু-7001313766, অঙ্কিত দে- 9064551177, তন্ময় অধিকারী- 7679918840, বুলেট সিং- 9641487529, অভিজিৎ চন্দ -7001331214, গৌরব ঘোষ- 7584819639, বাবুসোনা সুত্রধর- 9832322763, সম্রাট সাহা -8918749146, লক্ষণ সাহানি- 9474026640, দীপঙ্কর সরকার -7811071313।

এ ছাড়া জলপাইগুড়ি জেলার বন্যা কবলিত এলাকায়

যে কোনও প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে

8918540563 এবং 9749612896 নম্বরে।আলিপুরদুয়ার জেলার বন্যা কবলিত এলাকায় রেড ভলান্টিয়ারদের ফোন নম্বর 9064234866, 9735221810। কোচবিহার জেলায় রেড ভলান্টিয়ারদের যোগাযোগ নম্বর 7001763075, 8759634005, 6294020076 এবং 7319589085।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যা থেকে টানা বৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গের বহু জায়গায় ধস নেমেছে। যার ফলে একাধিক রাস্তা বন্ধ। তিস্তা নদীর জল উঠে এসেছে জাতীয় সড়কের উপরেও। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিধ্বস্ত পার্বত্য এলাকা পরিদর্শনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

CPDRS: কুলতলিতে মহিলাকে গণধর্ষণ, দোষীদের শাস্তির দাবি সিপিডিআরএস-এর 

এই দিনকাল: গোটা রাজ্য যখন উৎসবে সামিল সেই সময় ভয়াবহ গণধর্ষণের (Gang Rape) ঘটনা ঘটে গেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, অষ্টমীর রাতে ষাটোর্ধ্ব এক মহিলাকে নৃশংস ভাবে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। যে ঘটনার পর শুক্রবার নির্যাতিতা মহিলা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করল মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস (CPDRS) এর অনুসন্ধানী দল। এদিন নির্যাতিতার কাছ থেকে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শোনার পাশাপাশি গোটা ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃত্ব।

নির্যাতিতার পরিবার জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে তিন জন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখিয়ে মহিলাকে ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয় তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। পরে নির্যাতিতার ছেলে, বৌমা ও প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও অধরা এক অভিযুক্ত। উল্লেখ্য, তিন অভিযুক্তের মধ্যে এক জন আগেই ধর্ষণ মামলায় জেল খেটেছে। আরেক জনের বিরুদ্ধে পকসো মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, এলাকায় নারী নিরাপত্তার যে ভয়াবহ সঙ্কট, এই ঘটনা তা প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।

সিপিডিআরএস এর অনুসন্ধানী দলের সদস্য সেরিফ হোসেন পুরকাইত এদিন বলেন, ‘এক জন ষাট বছরের বৃদ্ধা মহিলাকে ধর্ষণের স্বীকার হতে হলো। এ সভ্যতার লজ্জা! সামাজিক  মূল্যবোধ বলে আর কিছু নেই। প্রশাসনের হাল তথৈবচ।’

Canning Murder: ক্যানিংয়ে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে খুন: পরিবারের সঙ্গে দেখা করল মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস

এই দিনকাল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার তালদিতে (Canning Murder) মুসলিম যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করল মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস। বুধবার সংগঠনের সহ সম্পাদক সুভাষ জানা, ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক সেরিফ হোসেন পুরকাইত-সহ চার সদস্যের প্রতিনিধিদল নিহত যুবকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। এদিন সংঠনের নেতৃত্ব দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘুটিয়ারি শরিফের শেখ নাজিম উদ্দিন নামের এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, রাতে শেষ ট্রেনে ফেরার সময় ভুল করে তালদিতে নেমে পড়ার পর তাঁকে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় একদল মদ্যপ দুষ্কৃতী। দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার পর ওই যুবকের মৃত্যু হয়। বুধবার ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে সিপিডিআরএস-এর রাজ্য সহ-সম্পাদক সুভাষ জানার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম পরিবারে সঙ্গে দেখা করে। 

নিহত শেখ নাজিম উদ্দিনের ছয় বছরের নাবালক ছেলে রয়েছে। পরিবারের তরফে নাজিমের স্ত্রী অভিযোগ করেন, সিসি টিভিতে দোষীদের চিহ্নিত করা গেলেও, পুলিশ সবাইকে এখনও গ্রেফতার করেনি। তিনি আরও বলেন, অতি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সিপিডিআরএস-এর সহ সম্পাদক সুভাষ জানা এদিন বলেন ‘রাজ্যজুড়ে পিটিয়ে মারার একাধিক ঘটনা ঘটছে। তালদি স্টেশনের মতো জায়গায় এরকম ঘটনা প্রমাণ করে, রাজ্যে নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়! অতি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ নাজিমের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক সেরিফ হোসেন পুরকাইত বলেন, ‘অভিযুক্ত দুষ্কৃতীরা মদ্যপ অবস্থায় ছিল। রাজ্যজুড়ে মদের ঢালাও লাইসেন্স প্রদান অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’