Category Archives: পশ্চিমবঙ্গ

Mahua Moitra: অমিত শাহর মাথাটা কেটে…’, বেলাগাম মন্তব্য মহুয়ার

এই দিনকাল: বিতর্কিত মন্তব্য করে ফের সংবাদের শিরোনামে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) নিয়ে বেনজির মন্তব্য করলেন তিনি। সৌজন্য ও শালীনতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করায় তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। 

ঠিক কী বলেছেন মহুয়া মৈত্র? বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘যেটা ভারতের সীমান্ত আছে, বাহিনী সেটা রক্ষার দায়িত্বে আছে। সরাসরি সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব। সেটা সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী ১৫ অগাস্ট, তিনি লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে বলছিলেন যে, অনুপ্রবেশকারী, অনুপ্রবেশকারী, ভারতে আমাদের জনবিন্যাস, সেটা নাকি বদলে যাচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক একটা চেঞ্জ হচ্ছে। এসব বলছিলেন। তিনি যখন এসব কথা বলছিলেন, প্রথম সারিতে তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্লজ্জভাবে দাঁড়িয়ে হেঁ হেঁ করে হেসে তিনি হাততালি দিচ্ছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করছি, যদি ভারতের সীমান্ত আমাদের রক্ষা করার কেউ নেই, যদি অন্য দেশের মানুষরা রোজ শয়ে শয়ে, লাখে লাখে, কোটি কোটিতে ঢুকে যাচ্ছে, যে আমাদের মা, বোনদের উপর চোখ দিচ্ছে, আমাদের জমি কেড়ে নিচ্ছে, তোমার প্রথমেই তো অমিত শাহর মাথাটা কেটে তোমার টেবিলে দেওয়া উচিত।’ প্রসঙ্গত, গত ১৫ অগাস্ট, স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন সেই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অমিত শাহকে বেলাগাম আক্রমণ করেন মহুয়া।

তৃণমূল সাংসদের এমন মন্তব্যে স্বাভাবিক ভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় পদ্ম শিবিরের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আগামী বছর হওয়ার কথা। তার আগে রাজনীতির ময়দানে সুর চড়াতে শুরু করেছে শাসক ও বিরোধী পক্ষ। তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমশ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে সরব হতে শুরু করেছে। অন্য দিকে বিজেপির প্রচারে অস্ত্র করা হয়েছে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে।

Mohan Bhagwat: ‘একসঙ্গে মিলেমিশে চলাই হিন্দুত্ব’, বার্তা ভাগবতের, শুভেন্দু শুনবেন?

এই দিনকাল: বিভেদ নয়, সম্প্রীতিই হিন্দুত্বের মূল সুর। এমনটাই দাবি করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। সঙ্ঘের শতবর্ষ উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন ভাগবত। যখন একাধিক রাজ্যে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ ক্রমশ মাথাচড়া দিচ্ছে, সেই আবহে আরএসএস প্রধানের এমন মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রসঙ্গত পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari) এই বিভাজনকারীদের দলে নাম লিখিয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি নিজেকে ‘হিন্দুদের বিধায়ক’ বলে দাবি করেছিলেন। কী ভাবে একজন জনপ্রতিনিধি এমন মন্তব্য করতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

‘আরএসএসের ১০০ বছরের যাত্রা: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক তিন দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় মোহন ভাগবত এদিন বলেন, ‘মুসলিমরা আল্লাহ, নবী এবং কোরানে বিশ্বাস করে। হিন্দুরা বিশ্বাস করে ঈশ্বর, বেদ এবং অনেক দেবদেবীর উপর। পৃথিবীতে অসংখ্য পথ রয়েছে – কিছু দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছায়, কিছু ধীরে ধীরে।’ তিনি বলেন, ‘হিন্দু’ নামটি ব্যবহার করলে সেই সঙ্গে দেশের প্রতি দায়িত্বও পালন করতে হবে। ভাগবত বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত, সমস্ত পথই বৈধ। নিজের পথে বিশ্বাস রাখো, অন্যের পথকে সম্মান করো, এবং সেগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা করো না। একসঙ্গে মিলেমিশে চলো – এটাই হিন্দু পথের মূল বাণী।’ 

অন্য দিকে ঠিক কী বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী? গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক সভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘আমি শুভেন্দু অধিকারী। আমি সবার বিধায়ক নই। আমাকে হিন্দুরা এমএলএ করেছে। আমি হিন্দুদের বিধায়ক। হিন্দুদের হিতে কাজ করি।’ প্রসঙ্গত বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী যে রাজনৈতিক দলের সদস্য, সেই বিজেপি সঙ্ঘ পরিবারের মতাদর্শ অনুসরণ করে, এটি সর্বজনবিদিত। সমালোচকদের প্রশ্ন, শুভেন্দু অধিকারী কি সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতের চেয়ে বড় হিন্দু? যেখানে হিন্দু রাষ্ট্র প্রসঙ্গে ভাগবতের উচ্চারণ, ‘একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের বিষয় নয়। এই ‘রাষ্ট্রে’ সকলের সঙ্গে ন্যায়বিচার এবং সমতার সঙ্গে আচরণ করা হয়। ‘রাষ্ট্র’ মানে এই নয় যে আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি, এটি সর্বদা অন্তর্ভুক্তিমূলক।’ কিন্তু শুভেন্দু কি শুনবেন?

Mamata Banerjee: বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার বিরুদ্ধে ফের সরব মমতা

এই দিনকাল: কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে আগেই সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফের এক বার এই বিষয়ে সুর চড়ালেন তিনি। মঙ্গলবার বর্ধমানে প্রশাসনিক সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানান। 

মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, বাংলা থেকে ২২ লক্ষ শ্রমিক ভিন রাজ্যে গিয়ে কাজ করেন। ওঁদেরকে দয়া করে নিয়ে যাওয়া হয়নি। কেউ সোনার কাজ ভাল করেন। কেউ জামা-কাপড় ভাল তৈরি করেন। কেউ নির্মাণকাজে দক্ষ। তাঁদেরকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জামাই আদর করে। কিন্তু তাঁদের ভাগ্যে আজ জুটছে অত্যাচার। মমতা প্রশ্ন করেন, কেন ওড়িশা, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, গুজরাটে বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে? অন্যান্য রাজ্য থেকেও অনেকে এই বাংলায় এসে পেটের ভাত জোটাচ্ছেন, এদিন সেই বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অন্য রাজ্যের দেড় কোটি মানুষও এই বাংলায় রয়েছেন। তাঁদের উপর এখানে কোনও অত্যাচার করা হয় না। তাহলে কেন বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে?

বর্ধমানের মঞ্চ থেকে এদিন মুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরে আসার বার্তা দেন। তিনি বলেন, যাঁরা ফিরে আসবেন তাঁদের জন্য শ্রমশ্রী প্রকল্প রয়েছে। রাজ্য সরকার পোর্টালও চালু করেছে। ফিরে এলেই তাঁদের ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। যতদিন না শ্রমিকেরা কাজ খুঁজে পাচ্ছেন— একবছর পর্যন্ত প্রতি মাসে তাঁদের পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে শ্রমিকের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পড়াশোনার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথী-সহ সমস্ত সরকারি প্রকল্প আওতায় তাঁদের নিয়ে আসা হবে।

Shramshree: পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরলে প্রতি মাসে পাবেন ৫ হাজার টাকা, নয়া ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এই দিনকাল: দেশের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর অত্যাচার ও নিপীড়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নয়া প্রকল্প ‘শ্রমশ্রী’ (Shramshree) চালু করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভিন রাজ্য থেকে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজের রাজ্যে ফিরে এলে তাঁদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। যত দিন না তাঁরা কাজ পাচ্ছেন এক বছর পর্যন্ত সরকারের তরফে প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী সোমবার বলেন, ভিনরাজ্যের কাজ ছেড়ে বাংলায় পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরে আসার পর পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এটি করলে সমস্ত সরকারি সুবিধা পাবেন তাঁরা। এ ছাড়া যাঁদের প্রশিক্ষণ দরকার তাঁদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে ফিরে এলে তাঁদের খাদ্যসাথী কার্ড, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করে দেওয়া হবে বলেও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনারও সুবিধা করে দেবে রাজ্য সরকার।

‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে.. বিভিন্ন রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। বাংলা ভাষায় কথা বললে হেনস্থা করা হচ্ছে। প্রায় ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগ হেনস্থার স্বীকার হয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিক যারা ফিরে আসছেন হেনস্থা হয়ে, আমরা এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলার বাইরে যারা পরিযায়ী শ্রমিক তাদের পুনর্বাসনের জন্য একটা পরিকল্পনা করেছি ‘শ্রমশ্রী’।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার ফিরে এসেছে। ‘শ্রমশ্রী’ পোর্টাল-এর মাধ্যমে তাঁরা আবেদন করবেন। তাঁদের একটা কার্ড দেওয়া হবে। জেলাশাসক, বিডিও, আইসি-দের বলব তাঁদের চিহ্নিত করতে।’

CPDRS: অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস-এর

এই দিনকাল: মানবাধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার উদ্দেশে কর্মশালার আয়োজন করল মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর প্রটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস অ্যান্ড সেকুলারিজম বা সিপিডিআরএস (CPDRS)। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার লক্ষ্মীকান্তপুরের ধনুরহাটে নেতাজি ক্লাব অডিটোরিয়ামে এই কর্মশালা হয়। এদিন কর্মশালা থেকে বক্তারা ধর্মীয় পরিচয় সরিয়ে রেখে অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।

সিএএ, এনআরসি-এর পর এসআইআর বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিপিডিআরএস এর দাবি, দেশ ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। দেশের প্রতিটি কোণে, প্রতি মুহুর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ-সহ বহু রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশি তমকা দিয়ে পে লোডারে করে ‘পুশ ব্যাক’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন সিপিএসআরএস এই সমস্ত ঘটনার প্রতিবাদে এদিন সরব হয়। প্রসঙ্গত মালদার যুবক আমির শেখকে রাজস্থান থেকে গ্রেফতার করে সে রাজ্যের পুলিশ এবং বিএসএফ তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল পে লোডারে করে। যদিও চাপে পড়ে এবং সমালোচনার মুখে পড়ে আবার তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

শনিবার সিপিডিআরএস-এর কর্মশালায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজকুমার বসাক। তিনি বলেন, ‘আইন সব সময় ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। আমরা ন্যায়ের পক্ষে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হচ্ছে, অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সকল ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ এদিন মানবাধিকার আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে বলেন সিপিএসআরএস এর নেতা জ্ঞানতোষ প্রামাণিক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডায়মন্ডহারবার মহকুমার সংঠনের সম্পাদক সেরিফ হোসেন পুরকাইত।

Amir Shaikh: ভুল হয়েছিল! বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া সেই বাঙালি যুবক আমিরকে দেশে ফেরাল মোদী সরকার 

এই দিনকাল: আদতে পশ্চিমবঙ্গের মালদহের বাসিন্দা আমির শেখকে (Amir Shaikh) রাজস্থান থেকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয় দিয়েছিল পুলিশ ও বিএসএফ। অবশেষে নিজেদের ভুল মেনে নিয়ে ওই যুবককে ভারতে ফেরত নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার৷ আমিরকে দেশে ফেরানোর খবর মঙ্গলবার জানিয়েছেন মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী৷

মালদহের কালিয়াচকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আমির শেখ। ২১ বছর বয়স তাঁর৷ গত ২৫ জুলাই সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়৷ সেখানে আমির শেখ দাবি করেন, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে। বিএসএফ তাঁকে সে দেশে ঠেলে পাঠিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে আমির পরিযায়ী শ্রমিক। মাস দুয়েক আগে তিনি নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে রাজস্থানের ভিলওয়াড়ায় কাজে যান৷ এলাকার কয়েক জনের সঙ্গে তিনি ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে স্থানীয় থানার পুলিশ তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। শুধু তাই নয় পরিচয় জানতে চায়। অভিযোগ, সেই সময় আমির শেখ তাঁর কাছে থাকা আধার ও ভোটার কার্ড দেখায়। কিন্তু তাতেও পুলিশ সন্তুষ্ট হয়নি৷ তাঁকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে থানায় দু তিন দিন আটকে রাখা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ অভিযোগ, এর পর তাঁকে বিএসএফ এর হাতে তুলে দেয় রাজস্থান পুলিশ। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে তাঁকে পে লোডারে চাপিয়ে ফেলে দেয়। তার পর থেকেই বাংলাদেশে ছিলেন আমির।

অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিপুত্র বাঙালি আমিরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ায় সরব হয় বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংগঠন। বাংলা পক্ষের নেতা গর্গ চট্টোপাধ্যায় আমিরের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি গোটা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু করেন মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী৷ তিনি বিএসএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল দলজিৎ সিং চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গোটা বিষয়টি জানান৷ আমিরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য লিখিত ভাবে বিএসএফ-এর শীর্ষকর্তার কাছে আবেদন করেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নজরেও আনেন ইশা। শাহের পরামর্শে ৬ আগস্ট তিনি দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের সঙ্গে৷ তিনি সাংসদকে আশ্বস্ত করেন আমিরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে। এদিন ইশা খান বলেন, ‘আমিরকে বাংলাদেশের একটি থানা থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে৷ সম্ভবত আজই তাঁকে বিএসএফ ছেড়ে দেবে৷’

CPDRS: ক্ষুদিরামকে সামনে রেখে বাঙালি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস

এই দিনকাল: শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মোৎসর্গ দিবসে বাঙালি নির্যাতনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস (CPDRS)। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর স্টেশন চত্বরে একটি পথসভা করে সেন্টার ফর প্রটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস অ্যান্ড সেকুলারিজম (সিপিডিআরএস)। সংগঠনের ডায়মন্ড হারবার মহকুমা কমিটির তরফে আয়োজন করা এই অনুষ্ঠানে গান, কবিতা ও বক্তৃতার মাধ্যমে শহিদ ক্ষুদিরাম বসুকে স্মরণ করা হয়। এদিন এই পথসভা থেকে বর্তমান সময়ে ঘটে চলা অন্যায় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সরব হন বক্তারা।

উল্লেখ্য রাজধানী দিল্লি-সহ বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এমন বহু বাঙালিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে। সোমবার সিপিডিআরএস-এর ডায়মন্ড হারবার মহকুমা কমিটির সম্পাদক শেরিফ হোসেন পুরকাইত এই দিনকাল এর মুখোমুখি হয়ে এই প্রবণতার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেক মানুষ যাঁরা এ দেশে জন্মেছেন তাঁদেরকে ভারতের নাগরিকত্ব দিতে হবে। বাঙালি বলে কাউকে কোনও রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া বা অপমান করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। আজকে আমরা যাঁর আত্মোৎসর্গ দিবস পালন করছি, সেই ক্ষুদিরাম বসু-সহ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি শহিদ হয়েছেন বাঙালি।’ তাঁর আরও সংযোজন, ব্রিটিশ আমলে ভারতীয়রা ভারতীয় হওয়ার কারণে ঘৃণার পাত্র হতেন। এখন বাঙালি হওয়ার কারণে অন্য রাজ্যে অপমানিত হতে হচ্ছে। তাই ক্ষুদিরাম বসুর লড়াই বর্তমান সময়ে ভীষণ প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পাশাপাশি কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে শেরিফ বলেন, ‘বর্তমানে যে অন্যায়, অত্যাচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে সেগুলি প্রতিহত করার চেষ্টা জারি রাখার জন্য ক্ষুদিরাম বসুর ১১৮ তম আত্মোৎসর্গ দিবসকে স্মরণ করছি আমরা। ক্ষুদিরাম আমাদের কাছে আলোকবর্তিকার মতো, যাঁরা আমাদের পথ দেখিয়ে গিয়েছেন।’ আরজি কর কাণ্ডে নিহত তরুণীর বিচারের দাবিতেও এদিন আওয়াজ তোলেন সিপিডিআরএস নেতৃত্ব। 

Murder: ভয়াবহ! নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে খুন ডায়মন্ড হারবারের যুবকের

এই দিনকাল: ভয়াবহ ঘটনা ডায়মন্ড হারবার থানা এলাকার শুকদেবপুর গ্রামে। নেশা করার জন্য বৃদ্ধ বাবার কাছে টাকা চেয়েছিল ২৭ বছরের যুবক। কিন্তু বাবা তা না-দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন (Murder) করার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত বৃদ্ধের নাম হরেন্দ্রনাথ বৈদ্য। ৬৫ বছর বয়স তাঁর। অভিযুক্ত ছেলের নাম সুপ্রিয় বৈদ্য (২৭)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানা এলাকার শুকদেবপুর গ্রামের বাদিন্দা তাঁরা। শনিবার সুপ্রিয় তাঁর বাবা হরেন্দ্রনাথের কাছে টাকা চান। কিন্তু ছেলে নেশা করে টাকা ওড়াবে বলে হরেন্দ্রনাথ টাকা দিতে অস্বীকার করেন। আর বাবার থেকে টাকা না পেয়ে রেগে যান সুপ্রিয়৷ বাবার সঙ্গে বচসা বাঁধে তাঁর। অভিযোগ, তখনই রাগের মাথায় ধারালো অস্ত্র এনে বাবাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হরেন্দ্রনাথ। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ হরেন্দ্রনাথকে উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য হরেন্দ্রনাথের দেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত সুপ্রিয় বৈদ্যকে গ্রেফতার করেছে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে তোলা হবে সুপ্রিয়কে।’

AIMIM: বিধানসভার আগে বাংলায় মজবুত হচ্ছে মিম, তৃণমূল-সহ বিভিন্ন দল থেকে ৭০০ জন ওয়েইসির দলে

এই দিনকাল: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর এক বছরও বাকি নেই। ভোটের ময়দানে জমি প্রস্তুত করতে ইতিমধ্যে ঝাঁপিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই আবহে পিছিয়ে নেই ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিনের দল মিম (AIMIM)। বাংলায় সংগঠন মজবুত করতে ও জনভিত্তি বাড়াতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে রবিবার প্রকাশ্য জনসভা করল অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন। আর এই জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রায় ৭০০ জন কর্মী যোগ দিলেন মিম পার্টিতে।

রবিবার জয়নগরের বাংলার মোড়ে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন মিমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি। এছাড়াও ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি সুজাউদ্দিন মণ্ডল, দক্ষিণ জোনের প্রেসিডেন্ট নিজাম উদ্দিন কাসেমি। অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন দলের রাজ্য সভাপতি এদিন মঞ্চ থেকে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন।  জয়নগরের অনুন্নয়ন নিয়ে তিনি শাসকদলকে নিশানা করেন। এ ছাড়া বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধেও আওয়াজ তোলেন ইমরান সোলাঙ্কি। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে গিয়ে মার খাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সোলাঙ্কি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি বলে, রোহিঙ্গা বলে বাঙালিদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বাঙালিরা দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, ওড়িশার মতো ভিন রাজ্যে গিয়ে রাজমিস্ত্রী, জরির কাজ করেন। বাঙালি নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?’

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এদিন মিমের কর্মী সমর্থকরা সমাবেশে যোগ দেন। বাংলায় এত রাজনৈতিক দল থাকতে কেন মিমের পতাকা কাঁধে তুলে নিয়েছেন? এই প্রশ্নের জবাবে সমাবেশে আসা মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের কোর কমিটির নেতা সাহিদ হোসেন মোল্লা ‘এই দিনকাল’কে বলেন, ‘ভারতবর্ষের নিপীড়িত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অবহেলিত, দলিত, আদিবাসী, ওবিসিদের জন্য যিনি সংসদে আওয়াজ তুলছেন সেই আসাদ উদ্দিন ওয়েইসির হাত শক্ত করার জন্য মিমে যোগ দিয়েছি। শুধু তাই নয় ওয়াকফ ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও আমরা দেখেছি।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে মিমের উত্থান বিপাকে ফেলতে পারে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট হাত ছাড়া হতে পারে জোড়াফুল শিবিরের।

Mamata Banerjee: প্রতি বুথে ১০ লক্ষ টাকা, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা মমতার

এই দিনকাল: নতুন সরকারি কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata banerjee)। রাস্তা, নলকূপ বা ছোট খাটো উন্নয়ন কাজের জন্য রাজ্যের বুথপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দের ঘোষণা করলেন তিনি। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। নয়া এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’।

সাংবাদিক বৈঠকে এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারতে বাংলায় এই প্রথম ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ এর মত কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে। রাজ্যজুড়ে আগামী ২ অগাস্ট থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গোটা রাজ্যে মোট ৮০ হাজার বুথ রয়েছে। তিনটে করে বুথ নিয়ে একটা কেন্দ্র হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে একদিন করে ক্যাম্প হবে। আগামী ২ অগাস্ট থেকে শুরু হবে। এই কর্মসূচি সম্পন্ন করতে ২ মাস সময় লাগবে বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পুজোর সময় উৎসবের জন্য ১৫দিন কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। বদলে পরবর্তী অন্যদিনগুলিতে কাজ হবে। প্রতি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে রাজ্যকে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করতে হবে।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট ছোট কাজের জন্য আমাদের নতুন প্রকল্প – আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান। মানুষের প্রকল্প নিয়ে সরকার এবার পথে নামছে। এটা ছোট্ট প্রোগ্রাম। কিন্তু পরে বিস্তৃত হবে। সারা দেশে এধরনের উদ্যোগ এই প্রথম। মানুষ নিজেদের বুথ, নিজেদের গ্রামের সমস্যার সমাধান পাবে।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ক্যাম্পগুলিতে সারাদিন থাকবেন সরকারি অফিসাররা। বুথে মানুষজন এসে গ্রামের সমস্যার কথা জানাবেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে অফিসাররা ঠিক করবেন, কতটুকু কাজ করা যাবে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে, অনলাইন পোর্টালে কাজ হবে।’ এই কর্মসূচির জন্য রাজ্যস্তরে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। জেলাস্তরেও টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আর কয়েক মাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বুথ স্তরে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ তৃণমূল সরকারের। এর ফলে বুথ স্তরে জোড়াফুল শিবিরের জনভিত্তিও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।