নিজস্ব প্রতিনিধি: দিল্লির কনট প্লেসে শুক্রবারের ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচি ঘিরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র উপর চাপ বাড়ল। দিল্লি পুলিশ সাফ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, কনট প্লেসের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অনুমোদনহীন জমায়েত বরদাস্ত করা হবে না। দিল্লির একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। এই ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়। সেই নির্দেশ অমান্য করে জমায়েত হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপির প্রস্তাবিত কর্মসূচি ঘিরে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্টকে জানিয়েছে পুলিশ। নবরাত্রি ও দশেরা উপলক্ষে ব্যবসা ব্যাহত হওয়া এবং জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে পালিকা বাজারের এক ব্যবসায়ী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই আবেদনের শুনানিতেই পুলিশের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য জানানো হয়।
‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে নির্দেশ জারির আবেদন জানিয়েছিল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ। তবে সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। পুলিশের বক্তব্য নথিভুক্ত করেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিতিন ওয়াসুদেও সাম্ব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার বেঞ্চ। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ নভেম্বর হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে সিজেপির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। বুধবার তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় দিল্লির একটি নিম্ন আদালত। এই গ্রেফতারির প্রতিবাদেই ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ বা ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী-সমর্থকদেরও কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার বার্তা দেন সিজেপি নেতা।