আকাশ রায়
ভারতীয় ওয়েব সিরিজ মানে মেন স্ট্রিম ওয়েব সিরিজ নাকি আজকাল প্রচুর মাত্রায় থ্রিলারপ্রেমী হয়ে উঠেছে, ব্যতিক্রম হিসেবে পঞ্চায়েত(Panchayet) অবশ্যই আসতে পারে তবে এটা মেনে নিতে তেমন অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। সেক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে মির্জাপুর(Mirzapur), স্পেশাল ওপস(Special Opps) আর ফ্যামিলি ম্যান একেবারে প্রথম সারিতে অবস্থান করতে বাধ্য। মির্জাপুর আর স্পেশাল ওপস যদি পঙ্কজ ত্রিপাঠী আর কে কে মেননের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে তবে ফ্যামিলি ম্যান নিঃসন্দেহে মনোজ বাজপেয়ীর স্বমহিমায় বিচরণ ক্ষেত্র।
অস্বীকার করার উপায় নেই প্রথম দুটো সিজনে ফ্যামিলি ম্যান আদতেই চোখের মণি হয়ে উঠেছিল দর্শকদের। দ্বিতীয় সিজনে সামান্থা প্রভুর সেই অনবদ্য অভিনয়, মনোজ বাজপেয়ীর সাথে স্কিন টু স্কিন ফাইট আলাদা করে চিনে নিতে বাধ্য করায়। রাজ এন্ড ডি’কের চেনা গন্ডিতে মুগ্ধ হতে হতে আমরা পেরিয়ে এসেছি বিগত কয়েকটি বছর। এবার পালা সিজন ৩ এর। অপেক্ষার অবসান ঘটাতে শীতের সন্ধ্যায় চা আর পকোড়ার সাথে দেখতে বসলাম ফ্যামিলি ম্যান সিজন ৩। দ্বিতীয় সিজন যেখানে শেষ করেছিল সেটা থেকে আশা ছিল পরবর্তীতে হয়তো কোভিডের রেফারেন্স এনে বয়ে যাবে সিজনটি, তা যে আমাদের ভুল প্রমাণিত করবে তার আভাস ট্রেলারেই পেয়েছিলাম, যাইহোক এই সিজনের প্রথম থেকেই মনোজ বাজপেয়ী যেন ইডেনের ব্যাটিং পিচে রোহিত শর্মা অথবা স্পিন সহায়ক পিচে মুরলিধরণ।
তবে সিজনের শেষে কয়েকটা বাঞ্ছিত অথবা অবাঞ্ছিত কথা মাথায় ঘুরছে। আচ্ছা ফ্যামিলি ম্যান সিরিজটির এমন নামকরণের কারণ কী? আমার মনে হয় মনোজ বাজপেয়ীর ক্যারেক্টারের কথা মাথায় রেখেই। তার কারণ একজন লোক, যার ব্যক্তিগত জীবন হতাশায় দোদুল্যমান, স্ত্রীর সাথে মতান্তর ও পরে মনান্তর, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চিন্তা আদতে সবক্ষেত্রেই জর্জরিত একটা মানুষ। আর অন্যদিকে কাজের ক্ষেত্রে মসীহা, সিক্রেট এজেন্সির জায়গায় পরিচিত নাম। ভাবনা ও স্ট্যাটেজির মুন্সিয়ানায় পেছনে ফেলে দিতে পারে সবকিছু। এমন মানুষের জন্যই সিরিজটির নামকরণ যথাযথ। এই সিজনে অ্যাকশনের প্রসঙ্গ এলে বলতে হয় দুটো এপিসোড (দ্বিতীয় আর শেষ) বাদ দিয়ে তার গন্ধটুকু নেই। কিছু ক্ষেত্রে কয়েকটি আলটপকা সিচুয়েশন আর ক্যারেক্টার এসে ভিড় করে, যাদের কোনও পরিণতি নেই। বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে কী হচ্ছে অথবা কেন হচ্ছে ভাবতে ভাবতে সিরিজটি শেষ হয়ে যায়।
এবার আসি কাহিনীর কথায়, কাহিনী অত্যন্ত সেনসিটিভ ও আকর্ষক, যা দর্শকদের মন জয় করতে বাধ্য। মনোজ বাজপেয়ীর নিজের কাজের প্রতি ইমোশন ও ডেডিকেশন চোখে পড়ার মতো। এছাড়া শারীব হাজমি (জে কে) চরিত্রটি এই সিরিজে আরো ডেভেলভ করেছে। বাকি চরিত্রদের মধ্যে জয়দীপ অহলওয়াট নেগেটিভ চরিত্রে দারুণ কাজ করেছেন। পুরো সিরিজ জুড়ে এই চরিত্রটির ডায়মেনশন চোখে পড়ার মতো। বাকি ক্ষেত্রে এই সিরিজটি শেষের দিকে দর্শকদের প্রত্যাশিত পরিখা অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারে ঠিক জমেনি। অনেক ঘটনার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই,তবে কি তা পরের সিজনের জন্য রাখার পরিকল্পনা আছে? মনে কিন্তু হয়না কারণ প্রতিটি সিজনে আলাদা গল্পের দিকে প্রতিবার এগিয়েছে ফ্যামিলি ম্যান। তাই এই সিজনকে টেনে পরের সিজনে যাওয়ার মতো কিছু ঘটনা ঘটলে তা অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার। এছাড়া শেষের দিকে একটা অদ্ভুত টুইস্ট বা মুভমেন্টের সাক্ষী থাকার ইচ্ছে থাকলেও, তাতে যে নিরাশ হয়েছেন দর্শকরা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফ্যামিলি ম্যান সিজন ৩, রিলিজ হল, দেখতে বাধ্য করল, কিন্তু শীতের মরসুমে জমলো কই?
