Tag Archives: Mohan Bhagwat

RSS: মুসলিমরা কী আরএসএস-এ যুক্ত হতে পারেন? কী বললেন মোহন ভাগবত?

এই দিনকাল: স্বাধীনতার আগে জন্ম নেওয়া রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) শতবর্ষ পূরণ করেছে। বর্তমান কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির (BJP) ‘মেন্টর’ এই সংগঠন। অতীতে নানা সময়ে বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, আরএসএস হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বলে। এই ধরনের সংগঠন সংখ্যালঘুদের কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে তা বিভিন্ন সময়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে। মুসলিমরা (Muslim) এই সংগঠনে যুক্ত হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে (Mohan Bhagwat)। কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে সঙ্ঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রবিবার ভাগবত এই বিষয়ে সঙ্ঘের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘে সামিল হতে পারবেন কিনা, এই বিষয়ে জানতে চাইলে মোহন ভাগবত বলেন, ‘সঙ্ঘে কোনও ব্রাহ্মণকে নেওয়া হয় না, কোনও বর্ণের কাউকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না, কোনও মুসলিমকে, কোনও খ্রিস্টানকে নেওয়া হয় না… বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ, মুসলিম বা খ্রিস্টান, তাদের ভিন্নতাকে সরিয়ে রেখে সঙ্ঘে আসতে পারেন। যখন আপনি শাখায় আসেন, তখন আপনি ভারত মাতার সন্তান হিসেবে আসেন। মুসলিম এবং খ্রিস্টান শাখায় আসেন, কিন্তু আমরা তাদের সেই হিসাবে দেখি না, আমরা জানতে চাই না, তারা কারা।’

রবিবার সরসঙ্ঘচালক আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ নীতি সমর্থন করে, কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে নয়। তিনি বলেন, অযোধ্যায় রাম মন্দিরের দাবি যদি কংগ্রেস সমর্থন করত, তাহলে হাত শিবিরকে সমর্থন করতেন আরএসএস কর্মীরা। তাঁর কথায়, ‘আমরা কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। আমরা নির্বাচনের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করি না। সঙ্ঘ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কাজ করে। অন্য দিকে, রাজনীতি বিভাজনমূলক। আমরা নীতি সমর্থন করি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা অযোধ্যায় রাম মন্দির চেয়েছিলাম, তাই আমাদের স্বয়ংসেবকরা এটি নির্মাণের পক্ষে ছিলেন।’ ভাগবত বলেন, ‘আমাদের কোনও দলের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ নেই। কোনও সঙ্ঘ পার্টি নেই; কোনও দল আমাদের নয়। এবং সমস্ত দলই আমাদের কারণ তারা ভারতীয় দল। আমরা রাষ্ট্রনীতি সমর্থন করি, রাজনীতি নয়। আমাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে, আমরা চাই এই দেশটি একটি নির্দিষ্ট দিকে এগিয়ে যাক। যারা দেশকে সেই দিকে পরিচালিত করে, আমরা তাদের সমর্থন করব।’

Mohan Bhagwat: ‘একসঙ্গে মিলেমিশে চলাই হিন্দুত্ব’, বার্তা ভাগবতের, শুভেন্দু শুনবেন?

এই দিনকাল: বিভেদ নয়, সম্প্রীতিই হিন্দুত্বের মূল সুর। এমনটাই দাবি করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। সঙ্ঘের শতবর্ষ উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন ভাগবত। যখন একাধিক রাজ্যে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ ক্রমশ মাথাচড়া দিচ্ছে, সেই আবহে আরএসএস প্রধানের এমন মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রসঙ্গত পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari) এই বিভাজনকারীদের দলে নাম লিখিয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি নিজেকে ‘হিন্দুদের বিধায়ক’ বলে দাবি করেছিলেন। কী ভাবে একজন জনপ্রতিনিধি এমন মন্তব্য করতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

‘আরএসএসের ১০০ বছরের যাত্রা: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক তিন দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় মোহন ভাগবত এদিন বলেন, ‘মুসলিমরা আল্লাহ, নবী এবং কোরানে বিশ্বাস করে। হিন্দুরা বিশ্বাস করে ঈশ্বর, বেদ এবং অনেক দেবদেবীর উপর। পৃথিবীতে অসংখ্য পথ রয়েছে – কিছু দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছায়, কিছু ধীরে ধীরে।’ তিনি বলেন, ‘হিন্দু’ নামটি ব্যবহার করলে সেই সঙ্গে দেশের প্রতি দায়িত্বও পালন করতে হবে। ভাগবত বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত, সমস্ত পথই বৈধ। নিজের পথে বিশ্বাস রাখো, অন্যের পথকে সম্মান করো, এবং সেগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা করো না। একসঙ্গে মিলেমিশে চলো – এটাই হিন্দু পথের মূল বাণী।’ 

অন্য দিকে ঠিক কী বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী? গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক সভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘আমি শুভেন্দু অধিকারী। আমি সবার বিধায়ক নই। আমাকে হিন্দুরা এমএলএ করেছে। আমি হিন্দুদের বিধায়ক। হিন্দুদের হিতে কাজ করি।’ প্রসঙ্গত বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী যে রাজনৈতিক দলের সদস্য, সেই বিজেপি সঙ্ঘ পরিবারের মতাদর্শ অনুসরণ করে, এটি সর্বজনবিদিত। সমালোচকদের প্রশ্ন, শুভেন্দু অধিকারী কি সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতের চেয়ে বড় হিন্দু? যেখানে হিন্দু রাষ্ট্র প্রসঙ্গে ভাগবতের উচ্চারণ, ‘একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের বিষয় নয়। এই ‘রাষ্ট্রে’ সকলের সঙ্গে ন্যায়বিচার এবং সমতার সঙ্গে আচরণ করা হয়। ‘রাষ্ট্র’ মানে এই নয় যে আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি, এটি সর্বদা অন্তর্ভুক্তিমূলক।’ কিন্তু শুভেন্দু কি শুনবেন?

Mohan Bhagwat: দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ঘোচাতে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ভাগবত

এই দিনকাল: দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে এবং পরস্পরকে জানার চেষ্টা জোরদার করার লক্ষ্যে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। বৃহস্পতিবার দিল্লির হরিয়ানা ভবনে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনের প্রধান-সহ বর্ষীয়ান মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন ভাগবত।

ইমাম উমর আহমেদ ইলিয়াসি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশন এর তরফে সংগঠনের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অন্য দিকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘও অক্টোবরে ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। ইমাম সংগঠনের প্রধান এদিন আরও বলেন, উভয় পক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দূর করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে আরও এই ধরনের বৈঠক আয়োজন করা হবে। তাঁর কথায়, ‘বৈঠকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে মন্দির ও মসজিদ, ইমাম ও পূজারী, গুরুকুল ও মাদ্রাসার মধ্যে আলোচনা শুরু করা উচিত। আমরা এখন এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। বৈঠকে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা, ঘৃণার অবসান ঘটানো এবং খোলা আলোচনার মাধ্যমে আস্থা বৃদ্ধির উপর আলোকপাত করা হয়েছে। সংলাপই প্রতিটি সমস্যার সমাধান। উপাসনা বা বর্ণের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, আমাদের জাতি সর্বোচ্চ।’ এ ছাড়া তিনি এটিকে একটি ‘যুগান্তকারী বৈঠক’ বলে অভিহিত করেন।

৬০ জনেরও বেশি মুসলিম ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী, মাওলানা এবং পণ্ডিতরা এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আরএসএসের জাতীয় প্রচার ও গণমাধ্যম বিভাগের প্রধান সুনীল আম্বেকর বলেন, ‘এটি সমাজের সকল শ্রেণীর সঙ্গে বিস্তৃত সংলাপের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মূল উদ্দেশ্য হল কী ভাবে দেশের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারে। আজকের আলোচনাও ইতিবাচক ছিল।’