এই দিনকাল: ধর্মীয় বিশ্বাসে তিনি খ্রিস্টান। কিন্তু সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্তাদের নির্দেশ অমান্য করে গুরুদ্বারে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেছিলেন। আর সে কারণেই তাঁকে বাহিনী বরখাস্ত করেছিল। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টেও (Supreme Court) ভর্ৎসিত হলেন ওই অফিসার। শীর্ষ আদালত ওই অফিসারকে ‘ঝগড়াটে ব্যক্তি’ এবং ‘অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে।
রিপোর্ট অনুসারে, শিখ সেনা জওয়ানদের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান না দেখানোয় তাঁকে অপসারণ করেছিল সেনাবাহিনী। বাহিনীর সেই সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। বরখাস্ত হওয়া ওই প্রাক্তন খ্রিস্টান সেনা অফিসারের নাম স্যামুয়েল কমলেসন। তাঁর আচরণ সামরিক শৃঙ্খলার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে সর্বোচ্চ আদালত। আদালত এদিন বলেছে, ‘তিনি কী ধরণের বার্তা দিচ্ছেন? কেবল এই কারণেই তাঁকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল। এটি একজন সেনা কর্মকর্তার দ্বারা সবচেয়ে জঘন্য ধরণের শৃঙ্খলাভঙ্গ।’
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ,’নেতাদের দৃষ্টান্ত হতে হবে। আপনি আপনার সৈন্যদের অপমান করছেন। ‘রিপোর্ট অনুসারে, একটি শিখ স্কোয়াড্রনে নিযুক্ত ছিলেন লেফটেন্যান্ট স্যামুয়েল কমলেসান। তিনি বাধ্যতামূলক রেজিমেন্টাল কুচকাওয়াজের সময় ধর্মীয় উপাসনা স্থলের অভ্যন্তরীণ গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেন। এর পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হন।
নিজের অবস্থানের পক্ষে কমলেসানের সাফাই, তাঁর খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের প্রতি আনুগত্যের কারণে শুধু নয়, বরং তাঁর সৈন্যদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করার ইচ্ছা থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালন করলে ধর্মীয় নীতি লঙ্ঘিত হবে না, কমলেসানকে খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা আশ্বাস দিয়েছিলেন। অভিযোগ, তার পরেও নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন তিনি। সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, তাঁর আচরণ বাহিনীর সংহতি এবং সৈন্যদের মনোবলকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। ২০২১ সালে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। মে মাসে, দিল্লি হাইকোর্ট সেই বরখাস্তের নির্দেশ বহাল রাখে। আদালত জানায়, কমান্ডিং অফিসার হিসেবে কমলেসানের দায়িত্ব বেশি ছিল। ধর্মীয় স্বাধীনতার চেয়ে আইনত আদেশ মেনে চলার বিষয় ছিল এটি। এরপর কমলেসন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, গুরুদ্বারে প্রবেশে তাঁর অস্বীকৃতি কি তাঁর অধস্তনদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অসম্মান করে না?
