এই দিনকাল: স্কুলের দলিত (Dalit) রাঁধুনির হাতে খাবার খেতে আপত্তি! শুধু তাই নয় প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করে সেই মহিলা রাঁধুনিকে বদলি করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে তামিলনাড়ুর একটি সরকারি স্কুলের এই ঘটনায় বৈষম্যের অভিযোগে এসসি এসটি আইনের আওতায় ছয় জনকে দোষী সাব্যস্ত করল বিশেষ আদালত। দোষীদের দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ৪৪ বছর বয়সী ওই দলিত রাঁধুনির নাম পি পাপ্পাল। তিনি তিরুমালাই গৌন্ডম্পালয়ামের সরকারি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে রাঁধুনি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আইনজীবী জানান, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ছয় অভিভাবক – পি পালানিসামি গাউন্ডার, এন শক্তিভেল, আর শানমুগাম, সি ভেলিংগিরি, এ দুরাইসামি এবং ভি সীতা লক্ষ্মী। তাঁরা জাতপাত সংক্রান্ত বৈষম্যের কারণে পড়ুয়াদের জন্য ওই দলিত রাঁধুনির রান্নার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ঘটনা এমনদিকে মোড় নেয় যে পাপ্পালকে বদলি করে দেওয়া হয়। অভিভাবকদের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু অস্পৃশ্যতা নির্মূল ফ্রন্ট। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে পাপ্পালের তরফে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে চেউর পুলিশ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে এসসি/এসটি আইনের আওতায় মামলা দায়ের করে। তদন্তে নেমে আট জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সুরেশ অভিযুক্তদের মধ্যে ছয় জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাঁদের প্রত্যেককে ৫,০০০ টাকা করে জরিমানা-সহ দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এই ঘটনায় প্রমাণের অভাবে আরও ২৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালীন চার অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের কোয়েম্বাটুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাপ্পালের আইনজীবী পিপি মোহন সাংবাদিকদের বলেন, ন্যায়বিচার এখনও অসম্পূর্ণ। তিনি বলেন, বিডিও এবং বেশ কয়েক জন পুলিশ কর্মী-সহ আধিকারিক, যাঁরা অভিভাবকদের চাপে রাঁধুনিকে বদলি করেছিলেন, ‘তাঁদেরকেও জবাবদিহি করতে হবে।’
