Naxal: ভারতে আর কোনও মাওবাদী-প্রভাবিত জেলা নেই, জানাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক



এই দিনকাল: দেশে মাওবাদী (Naxal) প্রভাবিত জেলার সংখ্যা শূন্য। এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা অতি বামপন্থার এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল নয়টি রাজ্যকে এক বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে অমিত শাহের মন্ত্রক। সেখানে বলা হয়েছে, ৩১ মার্চের পর একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে ‘দেশের কোনও জেলাই এখন মাওবাদী প্রভাবিত নয়’।


দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চলতি বছরের ৩১ মার্চকে চরম সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর, কেন্দ্রের ২০১৫ সালের ‘বাম চরমপন্থা মোকাবেলার জন্য জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা’-র অধীনে একটি উচ্চ-পর্যায়ের মূল্যায়ন করা হয়। তার পর এ কথা জানানো হয়। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর আগে সংসদকে জানিয়েছিলেন, ভারত বর্তমানে মাওবাদী সহিংসতা থেকে মুক্ত বলে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই পর্যালোচনায় সশস্ত্র নকশাল ক্যাডারদের শক্তি, তাদের হামলা চালানোর ক্ষমতা, “মুক্তাঞ্চল”-এর উপস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলিতে হিংসার মূল্যায়ন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই অগ্রগতিকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির ধারাবাহিক ও সমন্বিত চেষ্টার ফল বলে অভিহিত করেছে। শুধু তাই নয়, এটিকে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। তবে, সতর্কতা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। ৩৭টি জেলাকে “লেগ্যাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট ডিস্ট্রিক্ট” হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলাকে “ডিস্ট্রিক্ট অফ কনসার্ন” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, “লেগ্যাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট ডিস্ট্রিক্ট” হলো এমন জেলা যেগুলি কিনা এখন মাওবাদী মুক্ত, কিন্তু এর পুনরুত্থান রোধ করতে সেখানে ধারাবাহিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।“ডিস্ট্রিক্ট অফ কনসার্ন” বলতে বোঝানো হয়েছে, যে জেলায় হিংসা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, কিন্তু সেখানে ক্রমাগত নজরদারি প্রয়োজন। যে রাজ্যগুলিকে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ছত্তিসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা এবং পশ্চিমবঙ্গ। মার্চ মাসে হওয়া সর্বশেষ পর্যালোচনায় ছত্তিসগঢ়ের বিজাপুর এবং ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলাকে মাওবাদী-প্রভাবিত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *