এই দিনকাল: আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে। এই দফাতেই ভোট হবে উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘী বিধানসভা কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার এই কেন্দ্রের বাম জোটের প্রার্থী মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে তৃণমূল বিজেপিকে এক সারিতে রেখে আক্রমণ শানালেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim)। বামেরা ক্ষমতায় ফিরলে রাজ্য থেকে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ‘বিদায়’ করার হুঁশিয়ারি দেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা।
বৃহস্পতিবার মহম্মদ সেলিম ভাষণ দেওয়ার সময় করণদিঘীর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, রায়গঞ্জ লোকসভা থেকে জয়ী হয়ে তিনি যখন সাংসদ হয়েছিলেন, সেই সময় এই বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন তিনি। এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন বামেরা ক্ষমতায় ফিরলে প্রথম কাজ হবে রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা। তাঁর কথায়, ‘বামেরা জিতলে প্রথম কাজ এই বাংলায় শান্তি ফিরিয়ে আনব। অশান্তির শক্তিকে দূর করব। হিন্দু মুসলমানের ঐক্যকে দৃঢ় করব। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঝেঁটিয়ে বাংলার বাইরে পাঠাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন দাঙ্গা হাঙ্গামা হচ্ছে। আমাদের মা বোনেদের ইজ্জত নিয়ে খেলা হচ্ছে। এখানে কলকারখানা নেই, বেকার ছেলেমেয়েরা কাজ পাচ্ছে না, অন্য রাজ্যে যাচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে। আর সেখানে ভাষার নামে, ধর্মের নামে, পোশাকের নামে, খাদ্যের নামে তাদের উপর জুলুম করা হচ্ছে। আর এখানে তৃণমূল কী বলেছিল, তৃণমূল আসলে বিজেপিকে আটকাবে।’ এরপর কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘যখন কংগ্রেসের সরকার ছিল রাজ্যে, যখন বামফ্রন্টের সরকার ছিল, তখন এই বিজেপি ছিল? এই আরএসএস ছিল? তাহলে কোথা থেকে এলো? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খাল কেটে কুমির আনার মতো করে বিজেপিকে নিয়ে এসেছেন। তাই এবার যখন বিদায় করতে হবে মমতা-মোদী দুজনকেই বিদায় করতে হবে। কারণ একে অপরের পরিপূরক।’
উল্লেখ্য এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে গৌতম পালকে। শাসকদলের প্রার্থী নাকি বিকল্প শক্তি হিসেবে বাম প্রার্থীকে বেছে নেয় মানুষ, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে ফল ঘোষণার পর।