এই দিনকাল: কাজ করেছেন, কিন্তু পারিশ্রমিক বাকি রেখেছিল মালিক। আর প্রাপ্য মজুরি চাইতেই দলিত (Dalit) যুবককে ফুটন্ত আখের রসে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
রিপোর্ট অনুসারে, মৃত যুবকের নাম নিহত কুলদীপ কুমার। গত ১১ মার্চ তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন থেকেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার মারা যান কুলদীপ। মৃতের বাবা খেম করম গোটা বিষয়টি জানিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে তিনি লিখেছেন, কুলদীপ গত পাঁচ মাস ধরে ওই আখ মাড়াই কারখানায় কাজ করছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ১১ মার্চ যখন তাঁর ছেলে প্রাপ্য মজুরি চান, তখন কারখানার মালিক সাজিদ খান ও আরও দুজন তাঁকে টাকা দিতে অস্বীকার করে। সেই সঙ্গে তার ওপর হামলা চালায়। এফআইআর-এ খেম করম বলেছেন, ‘তারা আমার ছেলেকে ফুটন্ত আখের রসে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, এর ফলে সে মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।’
তাঁর দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে কুলদীপকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার বিষয়ে পরিবারকে জানায়। চিকিৎসার সময় কুলদীপকে একাধিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ইতিমধ্যে এই ঘটনার ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং এসসি এসটি আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় নিমগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অমিত কুমার রায় বলেন, ঘটনাটি ঘটেছিল ১১ মার্চ এবং কুলদীপের মৃত্যুর পর অভিযোগ দায়ের হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষের কথা শুনেছি এবং সব দিক খতিয়ে দেখছি।’ অন্য দিকে মূল অভিযুক্তের পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের পালটা দাবি, এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল। অভিযুক্তের এক আত্মীয় নাসির খান বলেন, “এটা দুর্ঘটন। কুলদীপ পড়ে গিয়েছিল; তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়নি। পরিবার ঘটনাটি বাড়িয়ে বলছে।’