Category Archives: দেশ

Band: মুসলিম হয়ে হিন্দু দেবদেবীর নাম ব্যবহার কেন? ব্যান্ড মালিকদের ডেকে পাঠাল যোগী রাজ্যের পুলিশ

এই দিনকাল: মুসলিম ব্যান্ড (Band) মালিকদের একাংশ নিজের সংস্থার নাম রেখেছিল হিন্দু দেবদেবীর নামে। আর তাতেই আপত্তি যোগী রাজ্যের পুলিশের। ব্যান্ড মালিকদের ডেকে পাঠাল উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার পুলিশ। তাদেরকে হিন্দু নাম ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। 

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, শাবি শর্মা নামের একজন আইনজীবী গত ৯ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর পোর্টালে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। যেখানে তিনি দাবি করেন জেলার প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন মুসলিম ব্যান্ড মালিক নিজেদের ব্যবসার নাম রেখেছেন হিন্দু দেবদেবীর নামে। অভিযোগ পাওয়ার পর, তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। মোরাদাবাদের এসপি (শহর) কুমার রণবিজয় সিং বেশ কয়েকজন ব্যান্ড অপারেটরকে ডেকে পাঠান, যাদের মধ্যে বেশিরভাগ ছিলেন মুসলিম। এসপি তাদের নির্দেশ দেন, ব্যান্ড হিন্দু দেবদেবীর নামে না রাখার জন্য। পুলিশের নির্দেশ মেনে চলবেন বলে জানিয়েছেন ব্যান্ড মালিকরা।

পুলিশের মতে, অভিযোগকারী দাবি করেছিলেন, এই প্রবণতা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে। সিং বলেন, ‘মঙ্গলবার, তাদের তলব করে এমন নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা সকলেই তা মেনে চলতে রাজি হয়েছেন।’ প্রসঙ্গত, একজন মুসলিম ব্যান্ড মালিক যদি তার ব্যান্ডের নাম হিন্দু দেবতার নামে রাখে, সেক্ষেত্রে বেআইনি কিছু নেই।

অভিযোগকারীর বক্তব্য, মোরাদাবাদের ব্যান্ড শিল্প মূলত মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে। এই প্রতিষ্ঠানগুলির অনেকগুলি হিন্দু নামে পরিচালিত হয়, যার মধ্যে হিন্দু দেব-দেবীর নামও রয়েছে। তাঁর দাবি, ‘এটি পরিচয় বিকৃত করার চেষ্টা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই ধরণের প্রথার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’ বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর পোর্টালে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছিলাম। এখন পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। এটি বৈষম্য নয়, এটি আইনি ব্যবস্থা।’

Bill: টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকলে হাতছাড়া হবে মন্ত্রিত্ব, বিল আনল কেন্দ্র, বিরোধিতায় তৃণমূল

এই দিনকাল: প্রধানমন্ত্রী হোন বা কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিংবা অন্য কোনও মন্ত্রী, যদি টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তাহলে হাতছাড়া হবে তাঁর মন্ত্রিত্ব। বুধবার লোকসভায় এই মর্মে বিল (Bill) পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রের তরফে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী এই বিল পেশ করার পর সরব হয়েছে তৃণমূল-সহ (TMC) বিরোধীরা। বিরোধীদের দমন করতে এই বিল আনা হয়েছে বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের।

অমিত শাহের পেশ করা বিলে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মন্ত্রীদের অপসারণ করার কথা বলা হয়েছে। অভিযুক্ত মন্ত্রীরা যদি কোনও গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে ধারাবাহিকভাবে ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তাহলে এই নিয়ম তাঁদের উপর প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি মন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করা হবে। বুধবার লোকসভায় ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করার পাশাপাশি আরও দুটি বিল পেশ করা হয়। সে দুটির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকার (সংশোধনী) বিল, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল। তিন বিলেরই বিরোধিতা করে তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। বিলের কপি ছিঁড়ে অমিত শাহের দিকে ছোঁড়েন বিরোধী সাংসদরা। সংসদের ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান অনেক সাংসদ। 

কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বুধবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, ‘ওরা বলছে ৩০ দিন, আমি শাহকে বলছি, ৩০ নয়, ১৫ দিন সময় নিন। লোকসভায় আপনাদের আনা বিলকে তৃণমূলও সমর্থন করবে। কিন্তু নতুন বিলে এই নিয়ম রাখতে হবে যে যাকে অপরাধী সন্দেহে জেলে রাখা হবে তার অপরাধ প্রমাণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরও দ্বিগুণ সময় জেলে থাকতে হবে।’

Supreme Court: ‘প্রেম অপরাধ?’, মুসলিম নাবালিকার বিয়ে সংক্রান্ত মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের

এই দিনকাল: জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন বা এনসিপিসিআর- (NCPCR)এর একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ২০২২ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ১৬ বছর বয়সী এক মুসলিম মেয়ে এবং তার ৩০ বছর বয়সী স্বামীকে সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কমিশন।

সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখেছে, যেখানে বলা হয়েছে, মুসলিম পার্সোনাল আইনের আওতায় বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছালে বা ১৫ বছরের বেশি বয়সী কোনও মেয়ে নিজের পছন্দের সঙ্গীকে বিয়ে করার জন্য ‘যোগ্য’। এ ক্ষেত্রে পকসো আইন প্রযোজ্য হবে না। জাভেদ এবং আশিয়ানা নামের ওই দম্পতি এবং তাদের সন্তানকে – সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এনসিপিসিআর-কে ভর্ৎসনা করেছে হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করার জন্য। প্রসঙ্গত, কমিশন দাবি করেছে, এ ক্ষেত্রে পকসো আইন লঙ্ঘন হয়েছে বলে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্না এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ এদিন বলে, ‘আপনার চ্যালেঞ্জ করার কোনও অধিকার নেই… যদি দুটি নাবালক হাইকোর্ট কর্তৃক সুরক্ষিত থাকে, তাহলে আপনি কীভাবে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন?’ আদালত আরও বলে, ‘আমরা দেখতে পাই না যে একজন নাবালককে সুরক্ষা দেওয়া হলে এনসিপিসিআর কীভাবে ক্ষুব্ধ হতে পারে’। 

এদিন কমিশনের তরফে আদালতে সওয়াল করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাট্টি। তিনি বলেন, ‘আদালত সুরক্ষা দেওয়া অব্যাহত রাখতে পারে, তবে আইনের বিষয়টি উন্মুক্ত রাখতে পারে। অর্থাৎ, একজন ১৫ বছর বয়সী মেয়ের কি ব্যক্তিগত আইনের ভিত্তিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আইনি এবং মানসিক ক্ষমতা থাকতে পারে?’ তবে সুপ্রিম কোর্ট এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়নি।  আদালতের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের জীবনের সুরক্ষা প্রদানের আদেশের ক্ষেত্রে ‘আইনের প্রশ্ন’ নিয়ে কোনও আলোচনা হতে পারে না। কমিশনকে সর্বোচ্চ আদালতের পরামর্শ, ‘আপনি যদি এই প্রশ্নটি তুলতে চান.. তাহলে উপযুক্ত মামলায় আবেদন করুন।’

সর্বোচ্চ আদালত বলে, ‘এখানে আইনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না… যদি হাইকোর্ট, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে, লিখিত নির্দেশ জারি করার ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাহলে আপনি কীভাবে এটিকে চ্যালেঞ্জ করছেন?’ বিচারপতি এনসিপিসিআরকে বলেন, ‘মেয়েটি তাঁর স্বামীর সঙ্গে থাকে! এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। আপনার সমস্যা কী?’ উল্লেখ্য, এদিন আদালত একই ধরণের মামলায় আরও তিনটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। কমিশনকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বিভি নাগরত্না বলেছেন, ‘আমরা এই রোমান্টিক মামলাগুলিকে আলাদা রাখতে চাই… এগুলি আমাদের বাদ দিতে হবে।’

Two Nation Theory: ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব প্রথম প্রচার করেছিলেন সাভারকর’, আম্বেদকরের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি কর্নাটকের মন্ত্রীর

এই দিনকাল: ধর্মের ভিত্তিতে (Two Nation Theory) ভাগ হয়েছিল ভারতবর্ষ। দেশভাগের জন্য অনেকে মহম্মদ আলি জিন্নাহকে দায়ী করেন। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-র পুত্র তথা কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়গের (Priyank Kharge)। তাঁর দাবি, ভারতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ধারণাটি প্রথম তুলেছিলেন বিনায়ক দামোদর সাভারকর। এমনকি মহম্মদ আলি জিন্নাহ এবং মুসলিম লীগ কর্তৃক তা গৃহীত হওয়ার অনেক আগে সাভারকর ধর্মের ভিত্তিতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রচার করেন।

রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে প্রিয়ঙ্ক খাড়গে লেখেন, ‘দ্বি-জাতির ধারণাটি প্রথম ‘বীর’ সাভারকর উত্থাপন করেছিলেন এবং তাঁর ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ সেই তত্ত্বকে সমর্থন করেছিল।’ কর্নাটকের তথ্য প্রযুক্তি এবং বায়োটেকনলোজি মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে সাভারকরের লেখা এবং বক্তৃতা উল্লেখ করে ঘটনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘১৯২২ সালে লেখা ‘এসেন্সিয়াল অফ হিন্দুত্ব’ বইতে, সাভারকর হিন্দুত্বকে ধর্ম দিয়ে নয়, হোমল্যান্ড দ্বারা সংজ্ঞায়িত করেছিলেন, ভারতকে ‘পিতৃভূমি এবং পবিত্রভূমি’ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন তিনি।’ খাড়গে উল্লেখ করেন, ১৯৩৭ সালে আহমেদাবাদে হিন্দু মহাসভার ১৯তম অধিবেশনে সাভারকর বলেছিলেন, ‘ভারতে পাশাপাশি দুটি বিরোধী জাতি বসবাস করছে। আজ ভারতকে একটি ঐক্যবদ্ধ এবং সমজাতীয় জাতি হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। বিপরীতে, ভারতে প্রধানত দুটি জাতি রয়েছে: হিন্দু এবং মুসলিম।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন ১৯৪৩ সালে নাগপুরে সাভারকরের মন্তব্য ছিল: ‘মিস্টার জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের সঙ্গে আমার কোনও বিরোধ নেই। আমরা, হিন্দুরা, আমরা নিজেরাই একটি জাতি, এবং এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য যে হিন্দু এবং মুসলিম দুটি জাতি।’

এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে প্রিয়ঙ্ক খাড়গে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি কি এই ইতিহাস অস্বীকার করে? পাশাপাশি বি আর আম্বেদকরের পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করেছেন তিনি। লিখেছেন, ‘অদ্ভুত মনে হলেও, এক জাতি বনাম দ্বি-জাতি ইস্যুতে মিস্টার সাভারকর এবং মিস্টার জিন্নাহ একে অপরের বিরোধী হওয়ার পরিবর্তে সম্পূর্ণ একমত। উভয়েই কেবল একমত নন, বরং জোর দিয়ে বলেন যে ভারতে দুটি জাতি রয়েছে – একটি মুসলিম জাতি এবং অন্যটি হিন্দু জাতি। তারা কেবল দুটি জাতি কোন শর্তে জীবন যাপন করবে সেই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।’

Humayun’s Tomb Collapses: মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধির কাছে দরগার ছাদ ভেঙে মৃত্যু ৬ জনের

এই দিনকাল: দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধির কাছে (Humayun’s Tomb Collapses) একটি দরগার ছাদ ভেঙে মৃত্যু হল ৬ জনের। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেশ কয়েক জনের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। 

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার ফলে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন। যাদের মধ্যে নয় জনকে চিকিৎসার জন্য দিল্লির এইমস ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবারের নামাজের জন্য মানুষজন দরগায় যাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকা ভেঙে পড়ে সেটির একাংশের ছাদ। দরগা শরীফ পাট্টে শাহ নিজামুদ্দিন পূর্বের হুমায়ুনের সমাধির কাছে অবস্থিত। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি খোলা প্রাঙ্গণের চারপাশে একটি ছোট সবুজ ভবন রয়েছে। সেটির এক পাশের ছাদ ভেঙে পড়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দিল্লির দমকল বাহিনী, দিল্লি পুলিশ, এনডিআরএফ এবং দিল্লি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী-সহ একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা। তারা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। অসমর্থিত সূত্রে খবর, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছরের পুরনো ছিল ভেঙে পড়া ছাদটি। শুক্রবার যখন সেটি ভেঙে পড়ে, সেই সময় দরগার ভেতরে ছিল ১৫ থেকে ২০ জন লোক। যাদের মধ্যে ইমামও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে ঘিরে রাখা হয়েছে।

President Droupadi Murmu: ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসের আগে জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণে এল ‘অপারেশন সিঁদুর’

এই দিনকাল: স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Droupadi Murmu) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে উঠে এল ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান প্রসঙ্গ। দেশের ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন দেশের সাংবিধানিক প্রধান। সেই ভাষণে সেনাবাহিনীর কাজের প্রশংসা করেন তিনি।

গত ২২ এপ্রিল জম্মুকাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ২৬ জনকে খুন করেছিল। সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর গত ৭ মে ভারতের সেনাবাহিনী পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করেছিল। যে অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। এদিন সেই অভিযানের কথা উঠে আসে রাষ্ট্রপতির ভাষণে। তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা সন্ত্রাসবাদের তীব্র আঘাতের মুখোমুখি হয়েছি। কাশ্মীরে ছুটি কাটাতে যাওয়া নিরীহ নাগরিকদের হত্যা চরম অমানবিক। ভারত প্রত্যুত্তর দিয়েছে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে, ইস্পাত-কঠিন প্রত্যয়ে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ দেখিয়ে দিয়েছে যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সুরক্ষায় যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। কৌশলগত দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মেলবন্ধনে তাঁরা সীমান্তের ওপারে জঙ্গিদের একের পর এক ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মানবতার সংগ্রামের ইতিহাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রত্যুত্তরের ক্ষেত্রে আমাদের ঐক্য বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। যারা আমাদের বিভাজিত করতে চায়, তাদের সবচেয়ে জোরালো জবাব এটাই। সাংসদদের বহুদলীয় প্রতিনিধিদল ভারতের বক্তব্য তুলে ধরতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যেভাবে কাজ করেছেন, তাতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই ঐক্য। সারা বিশ্ব ভারতের অবস্থান প্রত্যক্ষ করেছে। বার্তা পৌঁছে গেছে যে আমরা আগ্রাসনে তৎপর হব না, কিন্তু আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে প্রতিশোধ গ্রহণেও দ্বিধা করব না।’

প্রতিরক্ষা খাতে ভারত যে আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে তা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ”অপারেশন সিঁদুর’ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত কর্মসূচির সাফল্য প্রমাণিত করেছে। স্পষ্ট হয়েছে যে আমরা ঠিক পথে এগোচ্ছি। আমাদের দেশজ উৎপাদন কর্মসূচি সেই স্তরে পৌঁছেছে যা নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় বহু সরঞ্জাম নির্মাণে সক্ষম। স্বাধীনতার পর ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের ইতিহাসে এই সাফল্য এক অনবদ্য মাইলফলক।’

Triple Talaq: যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রীর উপর নির্যাতন, হোয়াটসঅ্যাপে তিন তালাক স্বামীর, দায়ের অভিযোগ

এই দিনকাল: পণের দাবিতে স্ত্রীর উপর চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। আর শ্বশুরবাড়ি থেকে তা না দেওয়ায় শেষমেশ গুণধর স্বামী তিন তালাক (Triple Talaq) দিলেন স্ত্রীকে। তাও আবার হোয়াটসঅ্যাপে। ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের উদুপিতে। ইতিমধ্যে ওই মহিলা বিষয়টি জানিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, অভিযোগকারী মহিলা কাউপ তালুকের থেনকা গ্রামের বাসিন্দা। ২৮ বছর বয়স তাঁর।পাদুবিদ্রি পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে ওই মহিলা উল্লেখ করেছেন, গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর কাউপ তালুকের কোপ্পালঙ্গাড়ি কমিউনিটি হলে মুবীন শেখের সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় পাত্র পক্ষের পরিবার বিশাল অঙ্কের টাকার পণ দাবি করে। অভিযোগ, সেই দাবির প্রেক্ষিতে ১০০ গ্রাম সোনার গয়না এবং নগদ ২০ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে দিয়েছিল ওই মহিলার পরিবার। মহিলার অভিযোগ, বিয়ের পর ইয়েরমালে তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। মাত্র মাস খানেক তাঁর স্বামী তাঁর সঙ্গে ভাল আচরণ করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন অভিযুক্ত। শুধু তাই নয় অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরাও ওই মহিলাকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। 

বিয়ের পর একদিন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান তাঁর বাবা। অভিযোগ, সেখানে তাঁর ননদ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন বাবাকে। এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে, অভিযোগকারিণীকে মারধর করা হয়। অভিযোগ পত্রে ওই মহিলা আরও লিখেছেন, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর তাঁর স্বামী বিদেশে চলে যান। এর পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আরও সোনা ও টাকা দাবি করতে শুরু করে। এমনকি হুমকি দেওয়া হয়, বাড়িতে থাকতে গেলে তাকে অতিরিক্ত যৌতুক আনতে হবে। অভিযোগ তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। তার মাঝে গত ১৫ জুলাই তাঁর স্বামী তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে তিন তালাক দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পাদুবিদ্রি থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮৫, ১১৫(২), ৩৫২, ৩৫১(৩)-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

Flood: বন্যায় ভেসে গেছে গ্রাম, যোগী রাজ্যের মন্ত্রী বললেন ‘গঙ্গা মাইয়ার’ আশীর্বাদ!

এই দিনকাল: বন্যা (Flood) কবলিত গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের মৎস্য মন্ত্রী সঞ্জয় নিষাদ। দুর্ভোগে পড়া মানুষজনকে তিনি বলেন, আপনাদের দরজায় ‘গঙ্গা মাইয়া’ পৌঁছে গিয়েছে, এটি আশীর্বাদ! এক জন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়ে তিনি কী ভাবে এমন অবিবেচকের মত কথা বললেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর শোরগোল।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাত এলাকার বন্যা কবলিত একটি গ্রাম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী এবং নিষাদ দলের প্রধান সঞ্জয় নিশাদ। সেই সময় তিনি গ্রামবাসীদের বলেন, গঙ্গা নদী ‘তাঁদের পা পরিষ্কার করার জন্য’ দুয়ারে পৌঁছেছে। কানপুর দেহাত এলাকায় নিষাদের সফরের একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যাতে দেখা গিয়েছে, মন্ত্রীকে একদল লোক ঘিরে ধরে তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা জানাচ্ছেন। সেই সময় এক জন তাঁর বাড়ির ভিতরে কতটা গভীরে জল পৌঁছে গিয়েছে তা নিয়ে কথা বলেন। তার জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘গঙ্গা মাইয়া আপনার পা পরিষ্কার করার জন্য আপনার দরজায় পৌঁছে গিয়েছে, এটি আপনাকে সরাসরি স্বর্গে নিয়ে যাবে।’ মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর সচেতন গ্রামবাসীরা পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি। দুর্ভোগে পড়া মানুষজন নিষাদকে বলেন, গঙ্গা মায়ের আশীর্বাদ পেতে তিনি তাঁদের বাড়িতে থাকুন!

উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা যখন বন্যার কবলে এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীর জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন অংশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, সেই সময় নিষাদের মন্তব্যে বিস্মিত অনেকে। এই মন্তব্যকে অসংবেদনশীল হিসেবে দেখছে বিরোধীরা। এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, ‘মন্ত্রী নিজে লখনউয়ের একটি অভিজাত এলাকায় থাকেন; গঙ্গা ভুলে যান, তাঁর দরজা দিয়ে একটি ড্রেনও বয়ে যায় না। তাহলে, এর অর্থ কি এটা অনুমান করা উচিত যে মন্ত্রী সোজা… সেখানে যাবেন?’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়ে নিষাদের ব্যাখ্যা, ‘আমি একটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম যেখানে মানুষজনের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি বলেছিলাম যে, মুক্তির জন্য, দূরদূরান্ত থেকে অনেকে গঙ্গায় পবিত্র স্নান করতে আসে – এবং এখানে, গঙ্গা মাইয়া তাদের দরজায় চলে এসেছেন।’ এখানে না থেমে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিষাদরা নদীকে পুজো করি – আমাদের জীবন ও জীবিকার উৎস। তাই এই মন্তব্যের নিজস্ব প্রেক্ষাপট আছে।’

Cloudburst: উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যয়, মৃত্যু ৪ জনের, নিখোঁজ ৫০ জনের বেশি

এই দিনকাল: মেঘভাঙা বৃষ্টির (Cloudburst) ফলে ভূমিধস উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায়। যার জেরে মৃত্যু হল চার জনের। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ৫০ জনের বেশি। মঙ্গলবার বিকেলের এই ঘটনায় বহু মানুষ কাদায় চাপা পড়ে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তরকাশী জেলার ধরলি গ্রামের ভয়াবহ দৃশ্য সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা গেছে ক্ষীরগঙ্গা নদীর জলাভূমিতে মেঘভাঙা বৃষ্টির পর স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে চিৎকার করছেন। বহু বাড়ি ও দোকানপাট তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়েছে ভূমিধসের ফলে। ইতিমধ্যে ঘটনা পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সঙ্গে কথা বলেছেন। সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও মুখ্যমন্ত্রী ধামির সঙ্গে কথা বলেছেন। ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে উদ্ধার কাজে নামানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারের জন্য অভিযান জারি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী ধামি বলেছেন, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তিনি জানান, প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সব ধরণের সাহায্য করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ধরালিতে ভূমিধস হয়। এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে সেনার তরফে বলা হয়েছে, ‘হরশীলের কাছে খীরগড় এলাকার ধরালি গ্রামে একটি বিশাল ভূমিধসের ফলে হঠাৎ বাড়িঘর ভেঙে ভেসে যায়।’ এতে আরও বলা হয়েছে, সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনী সাধারণ নাগরিকদের পাশে আছে বলে সেনার তরফে জানানো হয়েছে।

Muslim: মুসলিম হেডমাস্টারকে সরাতে পানীয় জলের ট্যাঙ্কে বিষ পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রের, গ্রেফতার ৩

এই দিনকাল: সরকারি স্কুলের হেডমাস্টার মুসলিম (Muslim), তাই তাঁকে সরানোর জন্য উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের প্ররোচনায় স্কুলের পানীয় জলের ট্যাঙ্কে বিষ মেশাল পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। সেই বিষাক্ত জল পান করার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ১২ জন পড়ুয়া। ১৪ জুলাই ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের বেলগাভি জেলার একটি স্কুলে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে শ্রী রাম সেনা নামক একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর  স্থানীয় নেতাও রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রধান শিক্ষক সুলেমান গোরিনায়েক মুসলিম হওয়ায় তাঁর সুনাম নষ্ট করতে এবং তাঁর প্রতি মানুষের আতঙ্ক ও সন্দেহ তৈরি করতে ষড়যন্ত্র করেছিল অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয় তাঁকে বদলি করানোরও উদ্দেশ্য ছিল তাদের। আর সেই লক্ষ্য পূরণে এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটায় অভিযুক্তরা। সুলেমান গত ১৩ বছর ধরে বেলগাভি জেলার হুলিকাট্টির সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। স্কুলের পানীয় জলের ট্যাঙ্ক থেকে জল পান করার জেরে একে একে অসুস্থ হতে শুরু করে পড়ুয়ারা। সব মিলিয়ে ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারোর মৃত্যু না হলেও এই অসুস্থতার ঘটনা ঘটতে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের মধ্যে। দ্রুত চিকিৎসার ফলে অসুস্থ পড়ুয়ারা সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু সব মিলিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে পানীয় জলের ট্যাঙ্কে বিষ দিয়েছিল পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্র। জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেলেটি জানায়, বিষাক্ত পদার্থের একটি বোতল তাকে দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল তা জলের ট্যাঙ্কে ঢেলে দেওয়ার জন্য। যে ব্যক্তি তাকে বোতলটি দিয়েছিল তার নাম কৃষ্ণ মাদার।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে কৃষ্ণকে চাপ দিয়ে এই কাজ করানো হয়েছিল। কারণ সে ভিন জাতের তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিল। আর যা সমাজে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিত সাগর পাতিল এবং নাগনাগৌড়া পাতিল। কৃষ্ণকে ব্ল্যাকমেইল করে এই কাজ করানো হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই গোটা ঘটনা ঘটেছে শ্রী রাম সেনা নামের ডানপন্থী সংগঠনের তালুক-স্তরের সভাপতি সাগর পাতিলের পরিকল্পনায়। পুলিশি জেরায় পাতিল স্বীকার করেছে, সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদে একজন মুসলিম বসে রয়েছে, এটা কোনও ভাবেই সে মেনে নিতে পারছিল না। তিন অভিযুক্ত – সাগর পাতিল, নাগনাগৌড়া পাতিল এবং কৃষ্ণ মাদার – কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। ‘ধর্মীয় ঘৃণা এবং মৌলবাদীদের দ্বারা পরিচালিত জঘন্য কাজ’ বলে গোটা বিষয়টিকে অভিহিত করেছেন তিনি। এই অপরাধ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বেলাগাভি জেলার সাভাদত্তি তালুকের হুলিকট্টি গ্রামের সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাঁকে অন্যত্র বদলি করার খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে, শ্রীরাম সেনার তালুক সভাপতি সাগর পাতিল এবং আরও দুজন স্কুলের শিশুদের পানীয় জলে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিল। তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৫ দিন আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, কিন্তু সৌভাগ্যবশত, কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।’