এই দিনকাল: রাম নবমীর (Ram Navami) মিছিল ঘিরে উত্তেজনা। আর তার জেরে মুসলিমদের (Muslim Shop) দোকানে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমার রঘুনাথগঞ্জে এই ঘটনা ঘটেছে। শোভাযাত্রা চলাকালীন গেরুয়া পোশাক পরা উন্মত্ত জনতা মুসলিম মালিকানাধীন প্রায় ৪০টি দোকানে এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। লাঠি হাতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি লুটপাটও করা হয়। বেশ কিছু জায়গায় হামলাকারীরা আগুন লাগিয়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এই ঘটনায়। হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রিপোর্ট অনুসারে, জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের কাছে ফুলতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। এই এলাকা মূলত মুসলিম অধ্যুষিত। এখানকার বেশিরভাগ বাড়ি, ছোট ব্যবসা, ফলের দোকান এবং খাবারের দোকান মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মালিকানাধীন। শুক্রবার নামাজের সময় উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে রাম নবমীর শোভাযাত্রা ফুলতলা মোড় থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি মসজিদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজনা চরমে ওঠে। নামাজে অংশগ্রহণকারীরা আপত্তি জানালে সংঘাত তৈরি হয়। পরে মিছিলটি ফুলতলা মোড়ের দিকে এগিয়ে যায়, যেখানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী জনতা মুসলিমদের বাড়ির ছাদে উঠে গেরুয়া পতাকা ওড়ায়, সম্পত্তি ভাঙচুর করে, দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ ধরে এই তাণ্ডব চলে। রঘুনাথগঞ্জ থানা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে এই ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন, জঙ্গিপুর পৌরসভার ৩০ বছর বয়সী কর্মচারী আবুল শেখ, লোহার রডের আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। ঘটনাটির বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন: “আমি মোটরবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলাম এবং ঘটনাক্রমে রাম নবমীর মিছিলের সামনে পড়ে যাই। তারা আমাকে ধরে ফেলে, প্রচণ্ড মারধর করে, আমার মোটরবাইকটি ভেঙে দেয় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি এখন জঙ্গিপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।” জঙ্গিপুরের বিধায়ক এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাকির হোসেন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই হিংসার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
শনিবার রানিগঞ্জে নির্বাচনী জনসভা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভা থেকে সরাসরি বিজেপিকে নিশান করেন তিনি। রঘুনাথগঞ্জের অশান্তি নিয়ে পদ্ম শিবিরকে দায়ী করেন। এক তরফা এই হামলায় একজনকেও ছাড়া হবে না বলে সরব হন মমতা। বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে সমাজ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘দোকানপাট ভাঙচুর করা হচ্ছে, ধর্মের নামে উত্তেজনা উসকে দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কোনও ‘বুলডোজার মডেল’-এর প্রয়োজন নেই। আমাদের বাইরে থেকে আমদানি করা ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতিরও কোনও প্রয়োজন নেই।’