এই দিনকাল: অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। আর তার জেরে দল থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করে দিল জোড়াফুল শিবির। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ঘটনাচক্রে এদিনই মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে জনসভা ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভায় ডাকও পেয়েছিলেন ভরতপুরের বিতর্কিত বিধায়ক। যখনই জানতে পারেন দল তাঁকে ছেঁটে ফেলেছে, তখনই সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন হুমায়ুন কবীর।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, আমি দলের তরফে এখনও কোনও চিঠি পাইনি। তবে অপেক্ষা করুন, অনেক কিছু বলার আছে। সেই সঙ্গে তিনি জানান, শুক্রবার কিংবা সোমবার বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেবেন তিনি। তাঁকে সাসপেন্ড করার পিছনে চক্রান্ত রয়েছে বলেও দাবি করেন। ৬ ডিসেম্বর মসজিদ নির্মাণ শুরুর যে কর্মসূচি তা অপরিবর্তিত থাকছে বলে জানান ভরতপুরের বিধায়ক। পাশাপাশি ২২ ডিসেম্বর নতুন দল ঘোষণার কথা জানান। শুধু তাই নয়, তাঁর নবগঠিত দল রাজ্যের ১৩৫ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে বলে জানান সাসপেন্ডেড বিধায়ক।
উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, এর আগেও দল থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। ২০১৫ সালে তাঁকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে রেজিনগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও সেবারে পরাজিত হন। তার পর কংগ্রেসে ফেরেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন হুমায়ুন। গেরুয়া শিবির তাঁকে সে বারে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থীও করেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরেন তিনি। ভরতপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন।