Tag Archives: Meta

Iran: ইরানের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করছে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি? অ্যামাজন, গুগল ও মেটার বিরুদ্ধে হামলার হুমকি তেহরানের

এই দিনকাল: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথ ভাবে হামলা চালায় ইরানে (Iran)। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। শুধু খামেনেই নয়, ইরানের একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্তাকে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে মার্কিন-ইজরায়েল বাহিনী। এই আবহে গুগল (Google), অ্যামাজন (Amazon), মেটার মতো তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দফতরে হামলা চালানোর হুমকি দিল ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলি বিভিন্ন ভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করছে। শুধু তাই নয়, সেই তথ্য শত্রু শিবিরের হাতে তুলে দিচ্ছে। যার ফলে তাঁরা নিখুঁত নিশানা করে হামলা চালিয়ে একের পর এক নেতাকে হত্যা করতে পারছে।


ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রযুক্তি সংস্থাগুলি যদি ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তাহলে তারা যেন হামলার জন্য প্রস্তুত থাকে। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারগুলোতে সম্প্রতি দুই বার হামলা চালিয়েছে ইরানের বাহিনী। দুবাইতে ওরাকলের অফিসেও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। ইরানের সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, অ্যামাজন এবং সিসকো-সহ ১৮টি প্রযুক্তি সংস্থার অবকাঠামোয় ভবিষ্যতে হামলা করা হবে।

কেন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোতে হামলা চালাতে চাইছে ইরান?


আইআরজিসির দাবি, এই প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে “গুপ্তচর বৃত্তি” করছে। ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এগুলি সাহায্য করছে বলে অভিযোগ। আইআরজিসির তরফে বলা হচ্ছে, সংস্থাগুলোর অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে। হামলার প্রস্তুতি হিসেবে কর্মী ও কাছাকাছি থাকা বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আর্জি জানিয়েছে তেহরান।

ইরানি নেতাদের অবস্থান নির্ণয় ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে মার্কিন ও ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীকে এই সংস্থাগুলি সহায়তা করছে বলে অভিযোগ ইরানের। তেহরানের দাবি, এই সংস্থাগুলি যে ধরণের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তার সঙ্গে সম্প্রতি আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির হত্যার যোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। প্রচলিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিকেও ছাড়িয়ে যায় এগুলির তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা। স্মার্টফোনের মতো ডিভাইসগুলি সুনির্দিষ্ট অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। শুধু তাই নয়, অবস্থান পরিষেবা বন্ধ থাকলেও কাছাকাছি থাকা ডিভাইসগুলোকে শনাক্ত করতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলিও একইভাবে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। যা সামরিক প্রেক্ষাপটে অপব্যবহার হতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ইরানের এমন দাবির পরে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে, রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সংস্থাগুলি। কিছু সংস্থা কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থা চালু করেছে।