Tag Archives: India

India Pakistan: দেশে কতগুলি পরমাণু কেন্দ্র রয়েছে? পরস্পরকে হিসেব দিল ভারত ও পাকিস্তান

এই দিনকাল: পহেলগাঁও কাণ্ড এবং তার পর অপারেশন সিঁদুর অভিযানের পর ভারত ও পাকিস্তানের (India Pakistan) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তবে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও নিয়ম মেনে পরস্পরকে পরমাণুকেন্দ্রের (nuclear installations) হিসেব দিল নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ। পাশাপাশি নিজেদের হেফাজতে পড়শি দেশের কত জন বন্দী রয়েছে সেই সংক্রান্ত তালিকাও বিনিময় করা হয়েছে উভয়ের মধ্যে। বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি এই তালিকা বিনিময় করা হয়েছে বলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর। 

বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের দেশে থাকা পারমাণবিক কেন্দ্রগুলির তালিকা পরস্পরকে দিয়েছে। ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত হওয়া একটি চুক্তির আওতায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ১৯৯১ সালের জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম চলে আসছে। ওই চুক্তি অনুসারে, উভয় দেশ প্রতি বছর ১ জানুয়ারি পারমাণবিক কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করে।

এর পাশাপাশি ২০০৮ সালের কনস্যুলার অ্যাক্সেস সংক্রান্ত চুক্তি অনুসারে ভারত নিজেদের হেফাজতে থাকা পাক বেসামরিক বন্দী ও জেলেদের তালিকাও ইসলামাবাদকে দিয়েছে। পাকিস্তানও সে দেশে বন্দী থাকা সাধারণ ভারতীয় নাগরিক ও মৎস্যজীবীদের তালিকা নয়াদিল্লিকে দিয়েছে। সূত্রের খবর, ভারতের হেফাজতে পাকিস্তানের ৩৯১ জন বেসামরিক বন্দী এবং ৩৩ জন জেলে রয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানে বন্দী রয়েছেন ৫৮ জন ভারতীয় বেসামরিক বন্দী এবং ১৯৯ জন জেলে।

Sheikh Hasina: ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে কি হস্তান্তর করবে ভারত?

এই দিনকাল: জুলাই গণহত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) মৃত্যদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে সেদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার, অর্থাৎ ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই সাজা শুনিয়েছে। হাসিনার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সেদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও। হাসিনার শাসনকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তাঁকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। কিন্তু ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত মুজিবকন্যা বর্তমানে ভারতে আশ্রয়ে রয়েছেন। নয়াদিল্লি তাঁকে ইউনুস সরকারের হাতে তুলে দেবে কিনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে হস্তান্তরের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। এক বিবৃতিতে ঢাকা বলেছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনও দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।’

এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ প্রসঙ্গে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘একটি নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি, স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব সময় সব অংশীদারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’

উল্লেখ্য, ১৭ নভেম্বর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ হাসিনা-সহ তিন জনের সাজা ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি। ২টা ৫৪ মিনিটে রায় পড়া শেষ হয়। যে তিন জনের বিরুদ্ধে এদিন ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে তার মধ্যে দুজন অর্থাৎ শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। অপর অভিযুক্ত চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আগেই গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। সে কারণেই তাঁর শাস্তি লাঘব করে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন তাঁর জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন সেই সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পৌঁছে দেন আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। তদন্তে জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ, নিরস্ত্র দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশের দমন পীড়নে জখম হয়েছিলেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

প্রসঙ্গত, ছাত্র জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পর থেকে ভারতেই রয়েছেন তিনি। হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত চেয়ে আগেও মহম্মদ ইউনুস সরকারের তরফে নয়াদিল্লিকে চিঠি লেখা হয়েছিল। যদিও ভারত এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।

Pakistan: গুরু নানকের জন্মবার্ষিকীতে তীর্থযাত্রায় পাকিস্তানে ২১০০ ভারতীয় শিখ, অপারেশন সিঁদুরের পর প্রথম বড় সফর

এই দিনকাল: গত এপ্রিলে জম্মুকাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত (India) ও পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। গত ৭ মে ভারতের তরফে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নয়টি জায়গায় জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয় বলে দাবি। সেই সামরিক উত্তেজনার পর স্থল সীমান্ত বন্ধ হয় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে। এই আবহে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে সংযোগের নতুন সেতু তৈরি করে দিলেন ভারতীয় শিখ সম্প্রদায়। গুরু নানকের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করলেন ২,১০০ ভারতীয় শিখ। মঙ্গলবার তীর্থযাত্রীদের ওই দলটি আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অপারেশন সিঁদুরের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম বড় সফর।

জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে যাওয়ার পর শিখ তীর্থযাত্রীরা বুধবার লাহোর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে গুরু নানকের জন্মভূমি নানকানা সাহেবে জমায়েত করবেন। এরপর তাঁরা গুরুদুয়ার পাঞ্জা সাহেব হাসান আবদাল, গুরুদুয়ার সাচ্চা সৌদা ফারুকাবাদ এবং গুরুদুয়ার দরবার সাহেব কর্তারপুর দর্শন করবেন। তীর্থযাত্রীদের ওই দলটির ১৩ নভেম্বর ভারতে ফিরে আসার কথা।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, গুরু নানকের ৫৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে ১০ দিনের উৎসব হবে পাকিস্তানে। সেই অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ২১৫০ জন ভারতীয় শিখকে ভিসা দিয়েছে পাক সরকার। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। এসজিপিসির যাত্রা বিভাগের দায়িত্বে থাকা পালবিন্দর সিং জানান, অনাবাসী ভারতীয়দের (এনআরআই) এই অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে এর পিছনে কী কারণ, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। অপারেশন সিঁদুরের পর নিরাপত্তা জনিত কারণে ভারত সরকার এর আগে তীর্থযাত্রার অনুমতি বাতিল করেছিল। তবে, দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে একাধিক শিখ সংগঠন সরকারের কাছে আর্জি জানায়, অন্তত একটি প্রতীকী জাঠার অনুমতি দেওয়ার। তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি বাতিল করে কেন্দ্র।

Operation Sindoor:‘অপারেশন সিঁদুরের’ পরেও জম্মুকাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত

এই দিনকাল:গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) অভিযান চালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসী কাঠামো ধ্বংস করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তা সত্ত্বেও পাকিস্তান থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়নি। বরং, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কালে এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সন্দেহ করা হচ্ছে গত চার মাসে ৭০ থেকে ৮০ জন জঙ্গি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। উত্তর কাশ্মীরের উরি, কুপওয়ারা, গুরেজ এবং জম্মু বিভাগের সাম্বার হীরানগর এবং সুন্দরবানীতে ঐতিহ্যবাহী রুট দিয়ে এই অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীও এ কথা মেনে নিয়েছেন গত সপ্তাহে। তিনি বলেছিলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্র্ওণ রেখা বরাবর অনুপ্রবেশের চেষ্টায় কোনও বিরাম নেই। জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা সত্ত্বেও, অনুপ্রবেশের চেষ্টা এখনও অব্যাহত।’ অনুপ্রবেশের এই বৃদ্ধির পিছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কাজকর্ম জারি রাখার জন্য ইসলামাবাদ জঙ্গিদের ভারতের ভূখণ্ডে ঠেলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, পহেলগাঁও কাণ্ডের পর সতর্কতার সঙ্গে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে ভারতের বাহিনী। সে কারণে উপত্যকায় জঙ্গি শিবিরে নিয়োগের হার কমে গিয়েছে।

শীতের মাসগুলিতে ভারী তুষারপাতের ফলে উঁচু পাহাড়ি পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে শীত শুরু হওয়ার আগেই জঙ্গিরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এটি জম্মুকাশ্মীরের অভ্যন্তরে জঙ্গিদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য একটি মরসুমি প্রচেষ্টার অংশ। নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহলদারিও বাড়ানো হয়েছে।

Modi government: বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা অমুসলিমদের জন্য বড় ঘোষণা মোদী সরকারের

এই দিনকাল: ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা অমুসলিম ব্যক্তিদের জন্য বড় ঘোষণা করল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার (Modi government)।এই তিন দেশ থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে উপরোক্ত কারণে ভারতে এসেছেন তাঁদেরকে কেন্দ্রীয় সরকার তাড়িয়ে দেবে না। বৈধ নথি না থাকলেও তাঁরা শরণার্থীর মর্যাদা পাবেন এ দেশে।

সোমবার অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া অভিবাসন এবং বিদেশি আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তি। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নিপীড়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সামনে আসছে। শুধু তাই নয় জোর করে তাঁদের মধ্যে কাউকে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। বস্তুত হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে বিজেপি সরকারের নিশানায় পড়েছেন বাঙালিরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী বছর যেহেতু অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে উদ্বাস্তু বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে বিজেপি শাসিত রাজ্যে ‘বাঙালি হেনস্থা’ নিয়ে যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তা দূর করার চেষ্টা করছে মোদী সরকার। তাঁদেরকে যে ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে না সেই আশ্বাস দিতে এই বিজ্ঞপ্তি। ভোটকে সামনে রেখে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও আদতে কার্যক্ষেত্রে কতটা সহায়ক হয় তা দেখার। 

অন্য দিকে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিজেপি নেরা শান্তনু ঠাকুর এবং সুকান্ত মজুমদার।

Amir Shaikh: ভুল হয়েছিল! বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া সেই বাঙালি যুবক আমিরকে দেশে ফেরাল মোদী সরকার 

এই দিনকাল: আদতে পশ্চিমবঙ্গের মালদহের বাসিন্দা আমির শেখকে (Amir Shaikh) রাজস্থান থেকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয় দিয়েছিল পুলিশ ও বিএসএফ। অবশেষে নিজেদের ভুল মেনে নিয়ে ওই যুবককে ভারতে ফেরত নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার৷ আমিরকে দেশে ফেরানোর খবর মঙ্গলবার জানিয়েছেন মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী৷

মালদহের কালিয়াচকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আমির শেখ। ২১ বছর বয়স তাঁর৷ গত ২৫ জুলাই সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়৷ সেখানে আমির শেখ দাবি করেন, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে। বিএসএফ তাঁকে সে দেশে ঠেলে পাঠিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে আমির পরিযায়ী শ্রমিক। মাস দুয়েক আগে তিনি নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে রাজস্থানের ভিলওয়াড়ায় কাজে যান৷ এলাকার কয়েক জনের সঙ্গে তিনি ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে স্থানীয় থানার পুলিশ তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। শুধু তাই নয় পরিচয় জানতে চায়। অভিযোগ, সেই সময় আমির শেখ তাঁর কাছে থাকা আধার ও ভোটার কার্ড দেখায়। কিন্তু তাতেও পুলিশ সন্তুষ্ট হয়নি৷ তাঁকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে থানায় দু তিন দিন আটকে রাখা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ অভিযোগ, এর পর তাঁকে বিএসএফ এর হাতে তুলে দেয় রাজস্থান পুলিশ। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে তাঁকে পে লোডারে চাপিয়ে ফেলে দেয়। তার পর থেকেই বাংলাদেশে ছিলেন আমির।

অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিপুত্র বাঙালি আমিরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ায় সরব হয় বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংগঠন। বাংলা পক্ষের নেতা গর্গ চট্টোপাধ্যায় আমিরের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি গোটা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু করেন মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী৷ তিনি বিএসএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল দলজিৎ সিং চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গোটা বিষয়টি জানান৷ আমিরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য লিখিত ভাবে বিএসএফ-এর শীর্ষকর্তার কাছে আবেদন করেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নজরেও আনেন ইশা। শাহের পরামর্শে ৬ আগস্ট তিনি দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের সঙ্গে৷ তিনি সাংসদকে আশ্বস্ত করেন আমিরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে। এদিন ইশা খান বলেন, ‘আমিরকে বাংলাদেশের একটি থানা থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে৷ সম্ভবত আজই তাঁকে বিএসএফ ছেড়ে দেবে৷’

India-Pakistan conflict: ভারত-পাক সংঘাত থামাতে ট্রাম্প মধ্যস্থতা করেছেন, ফের দাবি ওয়াশিংটনের

এই দিনকাল: তাঁর মধ্যস্ততায় ভারত-পাকিস্তান সংঘাত (India-Pakistan conflict) বন্ধ হয়েছিল বলে আগে একাধিক বার দাবি করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার সেই একই দাবি করলেন মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাত থামাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভূমিকা নিয়েছিল। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই পারমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘর্ষ থামিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রুবিও। সেখানে তিনি বলেন, শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে ট্রাম্প অঙ্গীকারবদ্ধ। আর ‘সে কারণে আমরা দেখেছি যখন ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধে সামিল হল, আমরা সরাসরি সংঘাত বন্ধ করতে সামিল হয়েছি এবং প্রেসিডেন্ট সেই শান্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন’, তিনি বলেন। তবে নয়াদিল্লির তরফে ওয়াশিংটনের এই দাবিকে আগেই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে বলে ভারতের দাবি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভারত-পাক সংঘাত বন্ধ হয়নি বলে সাফ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মুকাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চলে। জঙ্গিরা বেছে বেছে পর্যটকদের খুন করে। যে হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে দায় স্বীকার করেছিল লস্কর ই তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ। যদিও পরে ওই জঙ্গিগোষ্ঠী দায় অস্বীকার করে। ভারতের তরফে অভিযোগ করা হয়, এই গোটা ঘটনায় পাকিস্তানের হাত ছিল। সে কারণে গত ৭ মে ভারতের সেনাবাহিনী অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নয়টি জায়গায় জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। তার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। চার দিনের মাথায় ১০ মে দুই দেশ সংঘর্ষ বন্ধ করতে রাজি হয়।

Kidnapped: মালিতে আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলার মাঝে অপহৃত ৩ ভারতীয়

এই দিনকাল: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে তিন ভারতীয়কে অপহরণ (Kidnapped) করা হয়েছে। এই ঘটনায় বুধবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। অপহৃতদের ‘নিরাপদ এবং দ্রুত’ মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এদিন নয়াদিল্লির তরফে মালি সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, যে তিন ভারতীয়কে অপহরণ করা হয়েছে, তাঁরা কায়েসের ডায়মন্ড সিমেন্ট কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ১ জুলাই। একদল সশস্ত্র হামলাকারী কারখানা প্রাঙ্গণে আক্রমণ চালায় এবং তিন জন ভারতীয় নাগরিককে জোর করে জিম্মি করে। এখনও পর্যন্ত কেউ অপহরণের দায় স্বীকার করেনি। তবে আল-কায়েদার সহযোগী জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) মঙ্গলবার মালিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বামাকোতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং ডায়মন্ড সিমেন্ট কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় এবং ধারাবাহিক ভাবে যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি অপহৃতদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বিদেশ মন্ত্রক।

একটি বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, ‘ভারত সরকার দ্ব্যর্থহীনভাবে এই নিন্দনীয় সহিংসতার নিন্দা জানায় এবং মালি প্রজাতন্ত্রের সরকারকে অপহৃত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদ এবং দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদ এবং দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত রয়েছেন।’

ভারতে অতি দারিদ্র্যের হার ২৭.১% থেকে কমে ৫.৩% হয়েছে: রিপোর্ট

এই দিনকাল: দেশে অতি দারিদ্র‍্যের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে বলে রিপোর্টে দাবি। ২০১১-১২ সালে ভারতে অতি দারিদ্যের হার ছিল ২৭.১%। ২০২২-২৩ সালে যা কমে হয়েছে ৫.৩% হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

২০২২-২৩ সালে ভারতে প্রায় ৭৫.২৪ মিলিয়ন মানুষ অতি দারিদ্র‍্য সীমার মধ্যে বসবাস করতেন। ২০১১-১২ সালে যে সংখ্যাটা ছিল ৩৪৪.৪৭ মিলিয়ন। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুসারে, গত ১১ বছরে প্রায় ২৬৯ মিলিয়ন ব্যক্তিকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা হয়েছে। ২০১১-১২ সালে ভারতের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ ছিল উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং মধ্যপ্রদেশে। ২০২২-২৩ সাল নাগাদ এই সমস্ত রাজ্যগুলিতে অতি দারিদ্র‍্যের হার কমেছে। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘সামগ্রিক ভাবে অতি দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৩৪৪.৪৭ মিলিয়ন থেকে কমে মাত্র ৭৫.২৪ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।’

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই তৃতীয় মোদী সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি। তার আগেই বিশ্বব্যাঙ্কের এই রিপোর্টে উচ্ছ্বসিত বিজেপি। গেরুয়া শিবির এই রিপোর্টকে ঢাল করে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কৃতিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারে। দেশে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা, জন ধন যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারত এর মতো উদ্যোগগুলি আবাসন, রান্নার জ্বালানি, ব্যাঙ্কিং এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে।