Tag Archives: Humayun Kabir

Humayun Kabir: ‘মুসলিম বিধায়ক কমছে কেন?’ ‘বাবরি মসজিদের’ শিলান্যাস করে মমতাকে আক্রমণ হুমায়ুনের

এই দিনকাল: পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তিনি ধর্মস্থানের শিলান্যাস করেন। এদিন হুমায়ুন জানান, নতুন করে নির্মিত হতে চলা মসজিদের জন্য ৮০ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য করতে চেয়ে এক শিল্পপতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই এই কাজে টাকার অভাব হবে না বলে দাবি করেন বিধায়ক। পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ শানান দল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন।

ঠিক কত লোক হয়েছিল কর্মসূচিতে? হুমায়ুন সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেন, প্রায় চার লক্ষ মানুষ এদিন বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আরও লোক আসতেন। প্রশাসনের ‘চমকানিতে’ অনেকে আসতে পারেননি। হুমায়ুন কবীরের কথায়, ‘আরও ৫০ হাজার লোক বাড়ত। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি…প্রশাসনের একটা অংশ অনেক চমকেছে। অনেক লোক বাস ভাড়া করেছে, তাদের বলেছে, কোথায় যাবি ? ওরা বলেছে, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদে। তো, প্রশাসন তাদের বসিয়ে রেখেছে।’

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে মুসলিম বিধায়ক সংখ্যা ক্রমশ কমছে কেন, শনিবার সেই প্রশ্ন তোলেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে ৬৭ জন মুসলমান বিধায়ক ছিলেন। পুরো ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৬-তে সেই সংখ্যাটা নেমে এল ৫৭-তে। ২০২১ সালে সেটা চক্রান্ত করে নামিয়ে আনলেন মাত্র ৪৪ জনে।’ মুসলিম সমাজের কাছে আর্জি জানিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমি মুসলমান সমাজের কাছে একটাই কথা বলব, আপনারা যাকে খুশি যত মুসলমানদের ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠান। ২৯৪-এর মধ্যে যে বাকি ২০৪টা থাকবে সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে লড়াই হোক।’ এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁরা সরকারে থাকুন। আমরা বিরোধী আসনে থাকব। বিধানসভায় ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে অধিকার বুঝে নেব, উন্নয়ন বুঝে নেব। এটাই আমার লক্ষ্য।’

Humayun Kabir: ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা করায় তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হুমায়ুন, নতুন দল গড়বেন ২২ ডিসেম্বর

এই দিনকাল: অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। আর তার জেরে দল থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করে দিল জোড়াফুল শিবির। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ঘটনাচক্রে এদিনই মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে জনসভা ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভায় ডাকও পেয়েছিলেন ভরতপুরের বিতর্কিত বিধায়ক। যখনই জানতে পারেন দল তাঁকে ছেঁটে ফেলেছে, তখনই সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন হুমায়ুন কবীর।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, আমি দলের তরফে এখনও কোনও চিঠি পাইনি। তবে অপেক্ষা করুন, অনেক কিছু বলার আছে। সেই সঙ্গে তিনি জানান, শুক্রবার কিংবা সোমবার বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেবেন তিনি। তাঁকে সাসপেন্ড করার পিছনে চক্রান্ত রয়েছে বলেও দাবি করেন। ৬ ডিসেম্বর মসজিদ নির্মাণ শুরুর যে কর্মসূচি তা অপরিবর্তিত থাকছে বলে জানান ভরতপুরের বিধায়ক। পাশাপাশি ২২ ডিসেম্বর নতুন দল ঘোষণার কথা জানান। শুধু তাই নয়, তাঁর নবগঠিত দল রাজ্যের ১৩৫ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে বলে জানান সাসপেন্ডেড বিধায়ক।

উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, এর আগেও দল থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। ২০১৫ সালে তাঁকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে রেজিনগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও সেবারে পরাজিত হন। তার পর কংগ্রেসে ফেরেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন হুমায়ুন। গেরুয়া শিবির তাঁকে সে বারে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থীও করেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরেন তিনি। ভরতপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন।