আকাশ রায়
দূর পাহাড়ের পাথরে লেখা গল্প। একজন থেকেও নেই, আরেকজন ফাঁকি দিয়েছে কয়েকদিন। হোমবাউন্ড (Homebound) আসলে অন্য ভারতবর্ষের গল্প শোনায়। যে ভারতবর্ষে মেনস্ট্রিম মিডিয়ার একজন সাংবাদিক নজরুলের ‘একই বৃন্তে দুটি কুসুম’-কে বিকৃত করেন, যে ভারতবর্ষে শুধুমাত্র ধর্মের কারণে ভাগ হয়ে যায় দুটো মন, দুটো মেরু, এই সিনেমাটি তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়, দেখায় ‘এমন দ্বিধার পৃথিবীতে’ যখন আমাদের চোখের চামড়া পুরু হয়ে ওঠে, তখন বাস্তবতার মহত্ত্ব উদযাপনে একটা হোমবাউন্ড লাগে।
ধর্মের ভিত্তিতে স্বাধীনতা পাওয়া এই ভারতবর্ষের ৭৮ বছর পরও শোয়েবকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দিন বুলি হতে হয় আর চন্দনকে জেনারেল কাস্টের ছদ্মবেশ নিতে হয় সামাজিক ব্যাধি থেকে বাঁচতে। শুধুমাত্র নিচু জাতের হওয়ার কারণে মিথ্যে হয়ে যায় চন্দনের মায়ের হাতের স্নেহময় রান্না অথবা শিশুদের পরিচ্ছন্নতার পাঠ দেওয়া চন্দনের বোনের শিক্ষা।
কোভিড আসলে দেখিয়েছে অনেককিছুই। ডালগোনা কফি আর বোর হওয়ার স্মৃতিটুকু সরিয়ে দিলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের পায়ের সম্মিলিত আওয়াজ, মুখে গামছা বেঁধে হেঁটে চলা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। সামাজিক অবক্ষয়, নিয়মিত শোষিতের পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকা চন্দনের স্বপ্ন ছিল একটা লাঠি, একটা চেয়ার। দুনিয়া বদলে দিতে চাওয়া এক তরুণের নিদারুণ স্বপ্ন, অন্য দিকে অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে করতে নিজেকে নিয়ে চলে আসা ধর্মের চটুল রসিকতায় চিৎকার করে ওঠা শোয়েব। সে জানে তার এই চিৎকারে পাল্টাবে না কিছুই। এ পৃথিবী চিরকালই ক্ষমতার আস্ফালন দেখেছে, কিছুটা অসহায় হয়ে মেনেও নিয়েছে। এসব কিছুর পরেও হোম্বাউন্ড আপনাকে ভাবাবে, নিজের ভেতরের শোয়েব অথবা চন্দনকে একবার হলেও খোঁচা দেবে। এই জাগরণের কথাই আগাগোড়া বলে গেল হোমবাউন্ড। শিল্প দুনিয়া বদলাতে পারুক অথবা না পারুক, নিজেকে বদলে নেওয়ার একটা হাতছানি দিচ্ছে সিনেমাটি, আপনি প্রস্তুত?
