Tag Archives: Babri Demolition

Babri Demolition: বাবরি ধ্বংসের দিনকে শৌর্য দিবস ঘোষণা করে পিছু হঠল বিজেপি শাসিত রাজস্থান সরকার

এই দিনকাল: ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ (Babri Demolition) ধ্বংস করেছিল করসেবকরা। যে ঘটনা গোটা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রে ওই দিনটি ছিল একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। গত ৩০ নভেম্বর সেই দিনকেই ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে উদযাপন করার কথা ঘোষণা করেছিল বিজেপি শাসিত রাজস্থান সরকার। যদিও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করে পরে নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয় মরু রাজ্যের প্রশাসন।

৩০ নভেম্বর রাজস্থান সরকারের তরফে সমস্ত সরকারি অফিস এবং বেসরকারি স্কুলগুলিকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। যেখানে নির্দেশ দেওয়া হয় ‘বাবরি ধ্বংস দিবস’কে ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে উদযাপনের জন্য। এই বিশেষ দিনটিতে বক্তৃতা এবং প্রবন্ধ লেখা আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। প্রস্তাবিত বিষয়গুলির মধ্যে ছিল ‘ভারতীয় মন্দির সংস্কৃতি এবং রাম আন্দোলনের গৌরব’, ‘সাহস ও ত্যাগের ঐতিহ্য’, ‘জাতি গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা’। এ ছাড়া ‘অযোধ্যায় রাম মন্দির’ এর মতো বিষয়ের উপর ছবি আঁকা এবং পোস্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বিকানেরের ডিরেক্টর অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন সীতা রাম জাটের তরফে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলিতে দেশাত্মবোধক গান, নাটক পরিবেশন এবং রাম মন্দির নির্মাণের বিস্তারিত প্রদর্শনী আয়োজন করার কথা বলা হয়েছিল। তাতে আরও বলা হয়, দেশের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষা করার জন্য পড়ুয়াদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি অযোধ্যার রাম মন্দিরকে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং জাতীয় গর্ব পুনরুদ্ধারের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের অঙ্গীকার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভগবান রামকে স্মরণ করে স্তোত্র ও ভজনের পরিকল্পনাও ছিল।

রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলওয়ার সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমরা এটাকে বাবরি ধ্বংস বলব না। এটি মূলত একটি রাম মন্দির ছিল যা ৫০০ বছর আগে বাবর ধ্বংস করেছিলেন। মন্দির পুনর্নির্মাণের জন্য একটি আন্দোলন হয়েছে; এর জন্য প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং অনেক করসেবককেও গুলি ছোঁড়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে, যে এটি রামের জন্মস্থান এবং এখানে একটি রাম মন্দির তৈরি করা উচিত। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২ সালে করসেবকরা বিতর্কিত কাঠামো ভেঙে ফেলে। এটি ছিল সাহসিকতার কাজ এবং আমরা এটিকে শৌর্য দিবস হিসেবে উদযাপন করব।’ 

কিন্তু এত তর্জন গর্জন শেষে ভজন লাল সরকার শৌর্য দিবসের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। নাটকীয়ভাবে সরকারের তরফে বলা হয়, শৌর্য দিবস সংক্রান্ত মিডিয়া রিপোর্টগুলি ভিত্তিহীন। শুধু তাই নয় সীতা রাম জাটের তরফে জারি করা গত ৩০ নভেম্বরের নির্দেশকে ‘ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর দফতরের তরফে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়, ‘শিশুদের পরীক্ষা থাকায় অনুষ্ঠানটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজস্থানে সামনেই পঞ্চায়েত এবং পুরসভার নির্বাচন রয়েছে। সেই কারণে এই শৌর্য দিবস পালন করে বিতর্ক বাড়াতে চাইবে না বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।