মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ছাত্রকে মেঝেতে ফেলে পরানো হল হাতকড়া, প্রতিক্রিয়া দিল মার্কিন দূতাবাস

এই দিনকাল: মার্কিন মুলুকে এক ভারতীয় ছাত্রকে মেঝেতে ফেলে হাতকড়া পরানোর ছবি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যমও বিষয়টি খবর প্রকাশ করেছে। মোদীর ‘বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে ভারতীয়কে লাঞ্ছনা করার এই দৃশ্য সমাজ মাধ্যমে কার্যত ঝড় তুলেছে। এই ঘটনায় বিবৃতি জারি করেছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিওয়র্ক বিমানবন্দরে এক ভারতীয় তরুণকে মাটিতে ফেলে পিছমোড়া করে হাতে হাতকড়া পরানো হয়। রবিবার কুনাল জৈন নামে এক ব্যক্তি সেই ঘটনার ভিডিও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, পুলিশ এক তরুণকে মাটিতে ফেলে পিছমোড়া করে হাতকড়া পরাচ্ছে। পোস্টে কুনাল লেখেন, ‘তরুণটি স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন। কারও ক্ষতি করেননি। এক অনাবাসী হিসেবে নিজেকে অসহায় লাগছিল। আমার মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। এ এক মানবিক ট্র্যাজেডি।’ পোস্টটিতে ভারতীয় দূতাবাস ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ট্যাগ করেন তিনি। 

অন্য দিকে, এই ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে ভারতের মার্কিন দূতাবাস। ঘটনার কথা মেনে নিয়ে রীতিমতো কড়া ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে তারা। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তরফে বলা হয়েছে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অধিকার সবার নেই। আমরা বেআইনি অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করব না।’

ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ মেটাতে চান শেখ হাসিনার বোনঝি টিউলিপ

এই দিনকাল: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান শেখ হাসিনার বোনঝি টিউলিপ সিদ্দিক। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি দুর্নীতিতে তাঁর নাম জড়িয়েছে। সূত্রের খবর, ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে ‘ভুল–বোঝাবুঝির’ অবসান করতে চান টিউলিপ।

আগামী সপ্তাহে ব্রিটেন সফরে যাবেন মহম্মদ ইউনুস। সেই সফরকালে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন প্রাক্তন ‘সিটি মিনিস্টার’ টিউলিপ সিদ্দিক। উল্লেখ্য শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় বাংলাদেশে টিউলিপ এবং তাঁর মা শেখ রেহানা প্রভাব খাটিয়ে ৭ হাজার ২০০ বর্গফুটের প্লট নিয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিউলিপ।

মহম্মদ ইউনুসকে লেখা চিঠিতে টিউলিপ লিখেছেন, ‘আমি যুক্তরাজ্যের নাগরিক। লন্ডনে জন্মেছি। এক দশক ধরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। বাংলাদেশে আমার কোনো সম্পদ বা ব্যবসায়িক স্বার্থ নেই। বাংলাদেশের প্রতি আমার হৃদয়ের টান রয়েছে। তবে এটা সেই দেশ নয়, যেখানে আমি জন্মেছি, বসবাস করেছি বা নিজের পেশাজীবন গড়ে তুলেছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘এ বিষয়টি আমি দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পরিষ্কার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা লন্ডনে আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগে আগ্রহ দেখায়নি। তারা বারবার ঢাকার একটি ঠিকানায় এলোমেলোভাবে চিঠি পাঠাচ্ছে।’ যদিও চিঠি পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, আমরা টিউলিপ সিদ্দিকের কোনো চিঠি পাইনি।

ভারতে অতি দারিদ্র্যের হার ২৭.১% থেকে কমে ৫.৩% হয়েছে: রিপোর্ট

এই দিনকাল: দেশে অতি দারিদ্র‍্যের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে বলে রিপোর্টে দাবি। ২০১১-১২ সালে ভারতে অতি দারিদ্যের হার ছিল ২৭.১%। ২০২২-২৩ সালে যা কমে হয়েছে ৫.৩% হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

২০২২-২৩ সালে ভারতে প্রায় ৭৫.২৪ মিলিয়ন মানুষ অতি দারিদ্র‍্য সীমার মধ্যে বসবাস করতেন। ২০১১-১২ সালে যে সংখ্যাটা ছিল ৩৪৪.৪৭ মিলিয়ন। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুসারে, গত ১১ বছরে প্রায় ২৬৯ মিলিয়ন ব্যক্তিকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা হয়েছে। ২০১১-১২ সালে ভারতের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ ছিল উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং মধ্যপ্রদেশে। ২০২২-২৩ সাল নাগাদ এই সমস্ত রাজ্যগুলিতে অতি দারিদ্র‍্যের হার কমেছে। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘সামগ্রিক ভাবে অতি দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৩৪৪.৪৭ মিলিয়ন থেকে কমে মাত্র ৭৫.২৪ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।’

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই তৃতীয় মোদী সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি। তার আগেই বিশ্বব্যাঙ্কের এই রিপোর্টে উচ্ছ্বসিত বিজেপি। গেরুয়া শিবির এই রিপোর্টকে ঢাল করে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কৃতিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারে। দেশে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা, জন ধন যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারত এর মতো উদ্যোগগুলি আবাসন, রান্নার জ্বালানি, ব্যাঙ্কিং এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে।

আগামী বছর এপ্রিলেই হবে বাংলাদেশে নির্বাচন, জানিয়ে দিলেন ইউনুস

এই দিনকাল: আগামী বছর এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধেই হবে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। শুক্রবার এমনটাই জানালেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। এদিন সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এ কথা জানান তিনি।

মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিএনপি-সহ বাংলাদেশের একাধিক রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছিলেন। তারা দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনের প্রাথমিক সময় জানিয়ে দিলেন সেদেশের সরকারের প্রধান। শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মহম্মদ ইউনুস বলেন, ‘বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনসংক্রান্ত চলমান সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমি আজ দেশবাসীর কাছে ঘোষণা করছি যে আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধের যেকোনো একটি দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময়ে আপনাদের কাছে নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রদান করবে।’

নির্বাচনের কবে হবে সেই আভাস দেওয়ার পাশাপাশি শুক্রবার পূর্ববর্তী হাসিনা সরকারকেও নিশানা করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বর্বর ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছিল ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় বারবার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মধ্য দিয়ে। এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে যে মানুষের আস্থা অর্জন করা যায় না তা এদিন মনে করিয়ে দেন তিনি।