Category Archives: বিনোদন

Homebound: চোখে চোখ রেখে বলতে পারা এক ভারতবর্ষের গল্প 

আকাশ রায়

দূর পাহাড়ের পাথরে লেখা গল্প। একজন থেকেও নেই, আরেকজন ফাঁকি দিয়েছে কয়েকদিন। হোমবাউন্ড (Homebound) আসলে অন্য ভারতবর্ষের গল্প শোনায়। যে ভারতবর্ষে মেনস্ট্রিম মিডিয়ার একজন সাংবাদিক নজরুলের ‘একই বৃন্তে দুটি কুসুম’-কে বিকৃত করেন, যে ভারতবর্ষে শুধুমাত্র ধর্মের কারণে ভাগ হয়ে যায় দুটো মন, দুটো মেরু, এই সিনেমাটি তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়, দেখায় ‘এমন দ্বিধার পৃথিবীতে’ যখন আমাদের চোখের চামড়া পুরু হয়ে ওঠে, তখন বাস্তবতার মহত্ত্ব উদযাপনে একটা হোমবাউন্ড লাগে।

ধর্মের ভিত্তিতে স্বাধীনতা পাওয়া এই ভারতবর্ষের ৭৮ বছর পরও শোয়েবকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দিন বুলি হতে হয় আর চন্দনকে জেনারেল কাস্টের ছদ্মবেশ নিতে হয় সামাজিক ব্যাধি থেকে বাঁচতে। শুধুমাত্র নিচু জাতের হওয়ার কারণে মিথ্যে হয়ে যায় চন্দনের মায়ের হাতের স্নেহময় রান্না অথবা শিশুদের পরিচ্ছন্নতার পাঠ দেওয়া চন্দনের বোনের শিক্ষা।

কোভিড আসলে দেখিয়েছে অনেককিছুই। ডালগোনা কফি আর বোর হওয়ার স্মৃতিটুকু সরিয়ে দিলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের পায়ের সম্মিলিত আওয়াজ, মুখে গামছা বেঁধে হেঁটে চলা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। সামাজিক অবক্ষয়, নিয়মিত শোষিতের পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকা চন্দনের স্বপ্ন ছিল একটা লাঠি, একটা চেয়ার। দুনিয়া বদলে দিতে চাওয়া এক তরুণের নিদারুণ স্বপ্ন, অন্য দিকে অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে করতে নিজেকে নিয়ে চলে আসা ধর্মের চটুল রসিকতায় চিৎকার করে ওঠা শোয়েব। সে জানে তার এই চিৎকারে পাল্টাবে না কিছুই। এ পৃথিবী চিরকালই ক্ষমতার আস্ফালন দেখেছে, কিছুটা অসহায় হয়ে মেনেও নিয়েছে। এসব কিছুর পরেও হোম্বাউন্ড আপনাকে ভাবাবে, নিজের ভেতরের শোয়েব অথবা চন্দনকে একবার হলেও খোঁচা দেবে। এই জাগরণের কথাই আগাগোড়া বলে গেল হোমবাউন্ড। শিল্প দুনিয়া বদলাতে পারুক অথবা না পারুক, নিজেকে বদলে নেওয়ার একটা হাতছানি দিচ্ছে সিনেমাটি, আপনি প্রস্তুত?

The Family Man: ‘ফ্যামিলি ম্যান সিজন ৩’, যত গর্জালো ততটা বর্ষালো কই!

আকাশ রায়

ভারতীয় ওয়েব সিরিজ মানে মেন স্ট্রিম ওয়েব সিরিজ নাকি আজকাল প্রচুর মাত্রায় থ্রিলারপ্রেমী হয়ে উঠেছে, ব্যতিক্রম হিসেবে পঞ্চায়েত(Panchayet) অবশ্যই আসতে পারে তবে এটা মেনে নিতে তেমন অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। সেক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে মির্জাপুর(Mirzapur), স্পেশাল ওপস(Special Opps) আর ফ্যামিলি ম্যান একেবারে প্রথম সারিতে অবস্থান করতে বাধ্য। মির্জাপুর আর স্পেশাল ওপস যদি পঙ্কজ ত্রিপাঠী আর কে কে মেননের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে তবে ফ্যামিলি ম্যান নিঃসন্দেহে মনোজ বাজপেয়ীর স্বমহিমায় বিচরণ ক্ষেত্র। 

অস্বীকার করার উপায় নেই প্রথম দুটো সিজনে ফ্যামিলি ম্যান আদতেই চোখের মণি হয়ে উঠেছিল দর্শকদের। দ্বিতীয় সিজনে সামান্থা প্রভুর সেই অনবদ্য অভিনয়, মনোজ বাজপেয়ীর সাথে স্কিন টু স্কিন ফাইট আলাদা করে চিনে নিতে বাধ্য করায়। রাজ এন্ড ডি’কের চেনা গন্ডিতে মুগ্ধ হতে হতে আমরা পেরিয়ে এসেছি বিগত কয়েকটি বছর। এবার পালা সিজন ৩ এর। অপেক্ষার অবসান ঘটাতে শীতের সন্ধ্যায় চা আর পকোড়ার সাথে দেখতে বসলাম ফ্যামিলি ম্যান সিজন ৩। দ্বিতীয় সিজন যেখানে শেষ করেছিল সেটা থেকে আশা ছিল পরবর্তীতে হয়তো কোভিডের রেফারেন্স এনে বয়ে যাবে সিজনটি, তা যে আমাদের ভুল প্রমাণিত করবে তার আভাস ট্রেলারেই পেয়েছিলাম, যাইহোক এই সিজনের প্রথম থেকেই মনোজ বাজপেয়ী যেন ইডেনের ব্যাটিং পিচে রোহিত শর্মা অথবা স্পিন সহায়ক পিচে মুরলিধরণ। 

তবে সিজনের শেষে কয়েকটা বাঞ্ছিত অথবা অবাঞ্ছিত কথা মাথায় ঘুরছে। আচ্ছা ফ্যামিলি ম্যান সিরিজটির এমন নামকরণের কারণ কী? আমার মনে হয় মনোজ বাজপেয়ীর ক্যারেক্টারের কথা মাথায় রেখেই। তার কারণ একজন লোক, যার ব্যক্তিগত জীবন হতাশায় দোদুল্যমান, স্ত্রীর সাথে মতান্তর ও পরে মনান্তর, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চিন্তা আদতে সবক্ষেত্রেই জর্জরিত একটা মানুষ। আর অন্যদিকে কাজের ক্ষেত্রে মসীহা, সিক্রেট এজেন্সির জায়গায় পরিচিত নাম। ভাবনা ও স্ট্যাটেজির মুন্সিয়ানায় পেছনে ফেলে দিতে পারে সবকিছু। এমন মানুষের জন্যই সিরিজটির নামকরণ যথাযথ। এই সিজনে অ্যাকশনের প্রসঙ্গ এলে বলতে হয় দুটো এপিসোড (দ্বিতীয় আর শেষ) বাদ দিয়ে তার গন্ধটুকু নেই। কিছু ক্ষেত্রে কয়েকটি আলটপকা সিচুয়েশন আর ক্যারেক্টার এসে ভিড় করে, যাদের কোনও পরিণতি নেই। বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে কী হচ্ছে অথবা কেন হচ্ছে ভাবতে ভাবতে সিরিজটি শেষ হয়ে যায়। 

এবার আসি কাহিনীর কথায়, কাহিনী অত্যন্ত সেনসিটিভ ও আকর্ষক, যা দর্শকদের মন জয় করতে বাধ্য। মনোজ বাজপেয়ীর নিজের কাজের প্রতি ইমোশন ও ডেডিকেশন চোখে পড়ার মতো। এছাড়া শারীব হাজমি (জে কে) চরিত্রটি এই সিরিজে আরো ডেভেলভ করেছে। বাকি চরিত্রদের মধ্যে জয়দীপ অহলওয়াট নেগেটিভ চরিত্রে দারুণ কাজ করেছেন। পুরো সিরিজ জুড়ে এই চরিত্রটির ডায়মেনশন চোখে পড়ার মতো। বাকি ক্ষেত্রে এই সিরিজটি শেষের দিকে দর্শকদের প্রত্যাশিত পরিখা অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারে ঠিক জমেনি। অনেক ঘটনার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই,তবে কি তা পরের সিজনের জন্য রাখার পরিকল্পনা আছে? মনে কিন্তু হয়না কারণ প্রতিটি সিজনে আলাদা গল্পের দিকে প্রতিবার এগিয়েছে ফ্যামিলি ম্যান। তাই এই সিজনকে টেনে পরের সিজনে যাওয়ার মতো কিছু ঘটনা ঘটলে তা অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার। এছাড়া শেষের দিকে একটা অদ্ভুত টুইস্ট বা মুভমেন্টের সাক্ষী থাকার ইচ্ছে থাকলেও, তাতে যে নিরাশ হয়েছেন দর্শকরা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফ্যামিলি ম্যান সিজন ৩, রিলিজ হল, দেখতে বাধ্য করল, কিন্তু শীতের মরসুমে জমলো কই?

Glitterist Magazine: ফ্যাশন ও গ্ল্যামার ম্যাগাজিন গ্লিটারিস্টের ৪১তম সংখ্যা প্রকাশ

এই দিনকাল: ফ্যাশন ম্যাগাজিন গ্লিটারিস্টের (Glitterist Magazine) ৪১ তম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হল ১৫ অক্টোবর। ওই দিন সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার ‘হ্যাঙ্গআউটজ – দ্য বুটিক ক্যাফে’তে এই ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ফ্যাশন এবং সঙ্গীতের মনমোহিনী পরিবেশে ম্যাগাজিনটি প্রকাশ করার পাশাপাশি ‘গ্লিটারিস্ট – সেট দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাবলেজ’ (Glitterist – Set The World Ablaze) শিরোনামে একটি গানও প্রকাশ করা হয় এদিন। 

এদিনের অনুষ্ঠানে ফ্যাশন এবং বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। গ্লিটারিস্টের ৪১ তম সংখ্যার প্রচ্ছদ মডেল ত্রিপর্ণা গুহ এদিন অংশ নিয়েছিলেন। ছিলেন তেজস গান্ধী, মডেল ঈশান মজুমদার, রূপালী ভট্টাচার্য এবং প্রিয়ঞ্জলি কুণ্ডু। উপস্থিত ছিলেন গ্লিটারিস্ট ম্যাগাজিনের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সেলিব্রিটি মেক-আপ শিল্পী বন্দনা সাউ রক্ষিত এবং ঝুমেন্দু কয়াল, অভিনেত্রী বর্ণ রাহা ব্যানার্জি, আলোকচিত্রী সৌরভ অধিকারী এবং ম্যাগাজিনের সম্পাদক শুভজিত বর্মন।

কবে থেকে গ্লিটারিস্টের পথচলা শুরু হয়েছে, এই বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাগাজিনের সম্পাদক শুভজিত বর্মন বলেন, ‘২০২২ এর এপ্রিল মাস থেকে আমাদের ম্যাগাজিন শুরু হয়। এটা সর্বপ্রথম আমরা একটি ফটোবুক হিসেবে লঞ্চ করেছিলাম। আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তা বাড়ার পর থেকে এটাকে আমরা ম্যাগাজিনের আকার দিই। আমাদের ম্যাগাজিনের মাসিক সার্কুলেশন এক লক্ষের বেশি, অ্যামাজন থেকে সার্কুলেশন তিন হাজারের বেশি, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে বাকিটা। ৫১ পার্সেন্ট ভারতে সার্কুলেশন, ২৭ পার্সেন্ট জাপানে, ৪ পার্সেন্ট কানাডায়, ৫ পার্সেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং ৩ পার্সেন্ট জার্মানিতে সার্কুলেশন হয়।’ 

ম্যাগাজিন প্রকাশের লক্ষ্য কী? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গ্ল্যামার এবং ফ্যাশনের দুনিয়ায় যারা উচ্চ প্রোফাইল সম্পন্ন যারা প্রতিষ্ঠিত, তাদেরকে লক্ষ্য করে প্রোমোশন করা হয়। কিন্তু আমাদের ম্যাগাজিন প্রকাশের লক্ষ্য হচ্ছে, আমাদের এটি এমন একটা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে উঠতি তারকাদের আমরা তুলে ধরি।’

Shefali Jariwala: ‘কাঁটা লাগা’ খ্যাত অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যু

এই দিনকাল: জনপ্রিয় ‘কাঁটা লাগা’ গানের মুখ অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালা (Shefali Jariwala) প্রয়াত। শুক্রবার গভীর রাতে মুম্বইয়ে প্রয়াত হন তিনি। তবে ঠিক কী কারণে অভিনেত্রীর মৃত্যু তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। 

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, শেফালির স্বামী তাঁকে বেলভিউ মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান এদিন। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিনেত্রীর পরিবারের সদস্যরা এখনও মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুপার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অস্বাভাবিক ভাবে অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়েছে কি না তা জানতে পুলিশ শেফালির বাড়িতে রাঁধুনি এবং গৃহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ‘কাঁটা লাগা’ গান বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। সেই মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের পর শেফালি জারিওয়ালা খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে বিগ বস ১৩-তে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০০৪ সালে সলমন খান, অক্ষয় কুমার এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত ‘মুঝসে শাদি কারোগি’ ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন শেফালি।

স্বামী পরাগ ত্যাগীর সঙ্গে শেফালি ‘নাচ বালিয়ে’ সিজন ৫ এবং ৭-এও অংশ নিয়েছিলেন। পরাগের সঙ্গে ২০১৫ সালে বিয়ে করেছিলেন শেফালি। অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শেফালির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মিকা সিং। সমাজ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমি গভীরভাবে মর্মাহত, শোকাহত এবং ভারাক্রান্ত… আমাদের প্রিয় তারকা এবং আমার প্রিয় বন্ধু শেফালি জারিওয়ালা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। তোমার অনুগ্রহ, হাসি এবং চেতনার জন্য তুমি সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওম শান্তি।’

Panchayat Season 4: ‘পঞ্চায়েত’, একটি সাবালকত্ব অর্জনের নাম

আকাশ রায়

কয়েকদিন ফেসবুক স্ক্রোল করতে ভয় পাচ্ছি,খুব ভুল করেও যদি স্পয়লারে চোখ পড়ে যায়! তাই আগের রাতের ঘুম কে অনেকটা অগ্রাহ্য করে দেখলাম পঞ্চায়েত সিজন ৪ (Panchayat Season 4)। জিতু ভাইয়া ওরফে সচিবজী ওরফে জিতেন্দ্র কুমার কে বরাবরই ভালো লাগে তার সাবলীল অভিনয়ের জন্য। তাই বাড়তি উৎসাহ সেখান থেকেই পাওয়া।

বাকি সিজনগুলোর মতো এবারেও সিরিজটার একটা স্থিতধী ভঙ্গিমা রয়েছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণ হলো এই সিরিজের চরিত্রেরা, বিশেষত নেগেটিভ চরিত্ররা। আপনি তাদের সেই মাথায় রক্ত ওঠা অভিনয় দেখে রেগে যেতে পারেন, প্রয়োজনে মনে মনে (একা থাকলে,অথবা কমফোর্ট জোনে থাকলে) দুটো অশ্রাব্য গালিগালাজও করতে পারেন কিন্তু ঘৃণা করতে পারবেন না। এরা হয়তো কিছুটা সরল, কিছুটা নিজের স্বার্থের প্রতি অপ্রতিরোধ্য কিন্তু সেই অর্থে ক্ষতিকারক নয়। ভূষণ অথবা মাধবের কথা আলাদা না বললেও বিনোদ চরিত্রটি এই সিজনে টুপি খুলে রাখতে বাধ্য করায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে চোখের খেলায় ডুবতে ভালোবাসি, তাই মুখের কথার চেয়ে চোখ আমাকে বেশি টানে সবদিন। বিনোদ যখন ‘গদ্দার’ হতে আপত্তি জানায় তার চোখে আশ্চর্য উদাসীনতা ছিল আর ছিল সাবলীলতা। 

সচিব আর রিঙ্কির কেমিষ্ট্রি এই সিরিজে সবচেয়ে ওয়েটেড অংশ। সেখানে তারা রীতিমতো প্রশংসার দাবি রাখে। একটা গ্রাম্য প্রেমের জেনুইন দৃশ্যতে যেটুকু প্রয়োজন তার একচুলও বেশি হয়নি। পরিচালক এখানে মুন্সিয়ানার পাশাপাশি ভীষণরকমের প্রোফেশনাল, কারণ দর্শকদের প্রতীক্ষিত দৃশ্যের ক্ষেত্রেও তিনি কোনোভাবেই আবেগপ্রবণ নন। এটি আসলেই একটা স্লো এবং গভীর প্রেমের পরিণতি।

আমরা নিজেদের জীবনযুদ্ধে কখনও জিতি,বেশিরভাগ হারি। এখানের চরিত্ররা কেউ Larger than Life নয়। জীবনের পাশাপাশি এই সিরিজেও সেই বার্তা খুব স্পষ্ট। রিয়েলিস্টিক মানে অবশ্যই জিতে যাওয়া নয়, এই কনসেপ্ট চিরদিন মনে থেকে যাবে। দিনযাপনের পাশাপাশি পঞ্চায়েতও সাবালক হচ্ছে ধীরে ধীরে। সচিবের গ্রামে এসে স্ট্রাগল থেকে শুরু হওয়া এই সিরিজ এখন বিভিন্ন সামাজিকতার নিদর্শন হয়ে উঠছে।

আসলে ফুলেরা একটি গোলকধাঁধা, চক্রবূহ্য। আর সচিব এখানে অভিমণ্যু, যে এসে তো পড়েছে আর দিনের পর দিন জড়িয়ে যাচ্ছে এর মায়ায়। এই মায়ার বাঁধনের প্রেমে যে পড়েছে সে জানে, এর থেকে বেরোনোর পথ তার নেই, অথবা চায়ও না। আবার অপেক্ষা, পঞ্চায়েত ফিরুক আবার, আমরাও জীবন যুদ্ধে ছুটে বেড়াই। মাঝে ক্লান্ত হতে পারি, কিন্তু আবার ফিরব, সেই পরিচিত লিপ্সায়, সেই ফুলেরা তে, সেখানে সচিব আর রিঙ্কির প্রেম, প্রল্লাদের অভিমান, প্রধানের বুক ভাঙা কষ্ট আর বিকাশের সারল্য- সবটা রাখা আছে।

বিমান দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছিলেন, কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রয়াত হলেন কারিশ্মা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুর

এই দিনকাল: আহমেদাবাদের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রয়াত হলেন কারিশ্মা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুর (Sunjay Kapur)। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডে প্রয়াত হয়েছেন সঞ্জয়। প্রয়াণকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। সংবাদ মাধ্যম সুত্রে খবর, একটি পোলো ম্যাচ খেলার সময় তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছেড়ে গেলেও কিছুক্ষণ পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সূত্রের খবর, ম্যাচ চলাকালীন একটি মৌমাছি সঞ্জয় কাপুরের মুখে ঢুকে গিয়েছিল, যার ফলে গলা ফুলে গিয়েছিল এবং তারপরে হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। উল্লেখ্য, সঞ্জয় কাপুর ছিলেন অভিনেত্রী কারিশ্মা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী। ২০০৩ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের এক মেয়ে সামাইরা ও ছেলে কিয়ান রয়েছে। ২০১৪ সালে, উভয়েই পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন এবং ২০১৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। এর পরে, ২০১৭ সালে, সঞ্জয় মডেল প্রিয়া সচদেবকে বিয়ে করেন। প্রিয়া এবং সঞ্জয়ের একটি ছেলে রয়েছে।

সঞ্জয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বলিউডের অনেক তারকাই কারিশ্মার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। করিনা কাপুর ও তার স্বামী সইফ আলী খানকেও কারিশ্মার বাড়িতে দেখা গেছে। এছাড়াও মালাইকা অরোরা এবং অমৃতা অরোরা গভীর রাতে কারিশ্মার বাড়িতে পৌঁছন।সঞ্জয় কাপুর দুন স্কুলের পড়ুয়া ছিলেন। পোলো খেলতেন সঞ্জয়। তাঁর একটি পোলো টিম ছিল, যেটির নাম ‘অরিয়াস’। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে, সঞ্জয় কাপুর সোশ্যাল মিডিয়ায় আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছিলেন। এক্স হ্যান্ডেলে তার শেষ পোস্ট ছিল, ‘আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার খবরটি দুঃখজনক। আমার সমবেদনা এবং প্রার্থনা সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে। ঈশ্বর তাঁদের এই কঠিন সময়ে শক্তি দিন।’ এই পোস্টের পর, সঞ্জয় কাপুরের আকস্মিক প্রয়াণের খবর সমাজ মাধ্যমে আলোড়ন ফেলে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘জীবন সত্যিই খুব অনিশ্চিত।’