এই দিনকাল: বিশ্বের প্রথমসারির ফুটবল তারকা, যাঁকে ‘গোট’ নামে অভিহিত করেন ভক্তরা। সেই লিয়োনেল মেসির (Lionel Messi) কলকাতা সফর ঘিরে যে উন্মাদনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষোভে রূপান্তরিত হল শনিবার সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। বহু মূল্যে টিকিট কেটেও এদিন প্রিয় তারকাকে ভাল করে দর্শন না করতে পেরে মাঠের মধ্যে চেয়ার, জলের বোতল ছুঁড়ে দিলেন ভক্তরা। তৈরি হল তুমুল বিশৃঙ্খলা। এদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়েন মেসি। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন বিশৃঙ্খলার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন মেসি এবং তাঁর ভক্তদের কাছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে মেসিকে কলকাতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন যিনি, সেই শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবারের বিশৃঙ্খলা নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিশ্বমঞ্চে বাংলা হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছে পদ্ম শিবির। যদিও মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে এক জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। তিনি আয়োজককে গ্রেফতার এবং ফুটবলপ্রেমীদের টিকিটের টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঠিক কী ঘটেছিল
বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ফুটবলপ্রেমীর আইকন লিয়োনেল মেসি তিন দিনের ভারত সফরের প্রথম পর্যায়ে শনিবার ভোরে কলকাতায় পৌঁছন। শহরে নিজের একটি মূর্তি উন্মোচন করেন তারকা। এর পর, সল্টলেক স্টেডিয়ামে পৌঁছন। যেখানে তাঁর হাজার হাজার ভক্ত টিকিট কেটে জড়ো হয়েছিলেন প্রিয় ফুটবলারকে এক ঝলক দেখার জন্য। তবে সেই আনন্দ ছিল ক্ষণস্থায়ী। কারণ মাঠের মধ্যে মেসিকে ঘিরে ছিলেন নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু করে টলিউডের অভিনেত্রী। সেই ভিড়ের কারণে ফুটবল আইকনকে দেখতে পাননি ভক্তরা। সেই অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মাঠের মধ্যে চেয়ার এবং জলের বোতল ছুঁড়ে দেওয়ার মাধ্যমে। অনেকেই মাঠে ঢুকে পড়েন। কেউ কেউ স্টেডিয়ামে ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় দ্রুত। এর পর মাঠে নামানো হয় র্যাফ, পুলিশ। মেসিকে তড়িঘড়ি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কলকাতার পর মেসির পরবর্তী গন্তব্য ছিল এদিন হায়দরাবাদ। প্রসঙ্গত, এদিনই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে।