এই দিনকাল: সৎ বাবার যৌন নির্যাতন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসে অন্ধ্রপ্রদেশের ১৭ বছর বয়সী কিশোরী। কিন্তু বাড়ি ছেড়ে পালালেও ওড়িশায় এসে গণধর্ষণের (gang-rape) শিকার হল ওই নাবালিকা। বিজেপিশাসিত ওড়িশার ব্রহ্মপুরে এই ঘটনা ঘটেছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের কাডাপা জেলার বাসিন্দা ওই নির্যাতিতা। খুব অল্প বয়সে তার বাবা মারা যান। এর পর তার মা আবার বিয়ে করেন। অভিযোগ, সেই সৎ বাবা একাধিকবার তার যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। একদিন, ঘুমন্ত অবস্থায় ওই নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তার সৎ বাবা। ভয় পেয়ে মেয়েটি বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রশান্তি এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে ওড়িশার ব্রহ্মপুরে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে, নাবালিকা নিজের খরচ চালানোর জন্য একটি চায়ের দোকানে কাজ শুরু করে।
অভিযোগ, স্থানীয় এক কিশোরের সঙ্গে ওই নাবালিকার আলাপ হয়। ১৫ বছর বয়সী সেই কিশোর লঞ্জিপল্লীতে তার বাড়িতে নিয়ে যায় কিশোরীকে। সেখানে ছেলেটি তার দুই বন্ধুকে ফোন করে ডেকে আনে। অভিযোগ, ২৯ মার্চ, তিন জন মিলে মেয়েটিকে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে মাদকদ্রব্য খাইয়ে গণধর্ষণ। গঞ্জামের গোসাই নুয়াগাঁও পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধার করে। ইতিমধ্যে গোসাই নুয়াগাঁও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তার মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পপন্ন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযুক্ত তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ব্রহ্মপুরের পুলিশ সুপার সরভানা বিবেক এম এ বিষয়ে বলেন, তিন জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩ ও ১৯ বছর বয়সী দু জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৫ বছর বয়সী ছেলেটিকে একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। পকসো আইনে গণধর্ষণের মামলা ছাড়াও, পুলিশ অন্ধ্র প্রদেশে নির্যাতিতার সৎ বাবার বিরুদ্ধেও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করেছে।