Crime: ‘পুত্র হয়ে জন্মায়নি কেন?’ চার বছর বয়সী দুই কন্যাকে কুয়োয় ফেলে খুন বাবার!



এই দিনকাল: নিজের যমজ সন্তানকে কুয়োর জলে ফেলে দিয়ে হত্যা (Crime) করলেন বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার করিমনগরে। শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কামনা করতেন তাঁর পুত্র সন্তান হোক। কিন্তু তা না হওয়ায় যমজ কন্যা সন্তানদের কুয়োর জলে ফেলে দিয়ে হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম কাচ্ছু শ্রীশৈলম। করিমনগর গ্রামীণের জুবিলি নগরের বাসিন্দা তিনি। ছয় বছর আগে মৌনিকা নামের এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের যমজ কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। দুজনের নাম রাখেন গীতাংশী এবং গীতানভিকা। পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শ্রীশৈলম দুই কন্যা সন্তান নিয়ে খুশি ছিলেন না। কারণ তিনি পুত্রসন্তান চেয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় সময় তাঁর ঝগড়া হতো।

শুক্রবার সন্ধ্যায়, বাড়িতে ঝামেলার পর শ্রীশৈলম দুই কন্যাকে গ্রামের বাইরের একটি জমিতে নিয়ে যান। কিন্তু বাড়ির লোক পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি দুজনকে। পরে সন্দেহ করে, দুই শিশুকে কুয়োয় ফেলে দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। তদন্তকারীরা এসে কুয়ো থেকে গীতাংশীর নিথর দেহ উদ্ধার করে। তবে গীতানভিকাকে প্রথমে পাওয়া যাচ্ছিল না। কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশির পর দ্বিতীয় মৃতদেহটিও উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। অভিযুক্তকে উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় তারা। শিশুদের কুয়োয় ফেলার আগে তাদের কোনও বিষাক্ত কিছু দেওয়া হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে করিমনগর গ্রামীণ সার্কেল ইন্সপেক্টর এ নিরঞ্জন রেড্ডি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে পরিবারে প্রায়শই বিবাদ লেগে থাকতো, মূল কারণ ছিল কন্যা সন্তানের জন্ম। তাঁর কথায়, ‘আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি। শিশুদের কুয়োয় ফেলার আগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না তাও তদন্ত করে জানার চেষ্টা করছি।’

Leave a Comment